মঙ্গলবার

১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
প্রচণ্ড গরমে নগরীতে সামাজিক সংগঠন ‘হেল্প ডোর’র বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন বিতরণ জনতা ব্যাংক কাদিরগঞ্জ শাখার এটিএম বুথের উদ্বোধন রাজশাহী বহুমুখী বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন রাজশাহীর ডিসি জীবিকার তাগিদে একসময়ের যাত্রার নায়ক সামাদের কাঁধে এখন দোতারা রাজশাহীকে বাসযোগ্য শহর গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় আরডিএ’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের গোদাগাড়ীতে মাদক ও কিশোর অপরাধকে লাল কার্ড প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের শপথ আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যানের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ দুবাইয়ে গ্রেফতার বেনজীর, দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটের দায়িত্ব গ্রহণ

দেশে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্তে উদ্বেগ

Paris
Update : রবিবার, ৯ মে, ২০২১

এফএনএস : ভারতের নতুন ধরনের করোনা ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) কোনোভাবেই যাতে বাংলাদেশে ছড়াতে না পারে সেজন্য সীমান্ত ১৪ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ। গত ২৬ এপ্রিল থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) শনাক্ত হয়েছে। দেশে ছয়জনের দেহে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে দুইজনের দেহে ডাবল মিউটেশন পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এটি নিয়ে সবার উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। নাসিমা সুলতানা বলেন, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইইডিসিআর আলাদাভাবে পরীক্ষা করেছে। দুই প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাতেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ধরা পড়েছে।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের একটি নমুনা পরীক্ষায় ভারতীয় এ স্ট্রেইন ধরা পড়েছে, যা জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটাতে (জিআইএসএআইডি) প্রকাশিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গণমাধ্যমকে জানান, দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এ ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীরা ভারত থেকে ফিরেছেন। তারা চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। বর্তমানে তারা যশোরে অবস্থান করছেন। জিআইএসএআইডির তথ্য বলছে, ভারতীয় ধরন বি.১.৬১৭ যাদের শরীরে পাওয়া গেছে সেই দুইজনের বয়স ৪১ ও ২৩ বছর। তারা ভারতে ভ্রমণে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন।

তাদের একজন খুলনার ও একজন ঢাকার। দুইজনই পুরুষ। তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয় গত ২৮ ও ২৯ এপ্রিল। তথ্যগুলো সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পক্ষ থেকে ডাটাবেজে আপলোড করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালে একটি নমুনা পাওয়া গেছে। সেটি আমি দেখেছি। ধরা পড়েছে বলেই এ ধরনের তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। করোনায় প্রতিবেশী ভারতের অবস্থা ভয়াবহ। মৃত্যু ও শনাক্তে নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে প্রতিদিন।

দেশটিতে এবারের পরিস্থিতির জন্য বিশেষভাবে দায়ী করা হচ্ছে কোভিডের ‘ডাবল’ বা ‘ট্রিপল মিউটেশন’ ভেরিয়েন্টকে। অত্যন্ত বিপজ্জনক এই ধরন বাংলাদেশে যাতে আসতে না পারে, সে জন্য ভারতের সঙ্গে সীমান্ত দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। তবে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের স্বার্থে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। আর আকাশপথে গত ১৪ এপ্রিল থেকে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে যশোরে ভারতফেরত দুই বাংলাদেশির শরীরে করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্ট (ধরন) শনাক্ত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে নমুনা সিকুয়েন্সিং করে গতকাল শনিবার দুপুরে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং যবিপ্রবি জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক ও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভারতফেরত করোনার রোগীর নমুনায় ভারতীয় ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে।

ল্যাবে কিছু সিকোয়েন্স করে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স করার প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি আমরা আইইডিসিআরকে (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট) জানিয়েছি। পাশাপাশি যশোর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করেছি। যবিপ্রবি জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক ও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে ভারতফেরত ১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

এর মধ্যে তিনজন কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনের শরীরে করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্টের (বি-১.৬১৭.২) অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে এটি ডাবল মিউটেশন নয়। যেহেতু একটি এসেছে, ফলে ডাবল মিউটেশন বা অন্য ভেরিয়েন্টও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, কোন রোগীর নমুনায় এই ভেরিয়েন্ট এসেছে, তা যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

তারা এই রোগীদের আলাদাভাবে আইসোলেশনে রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হয় যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়ের সঙ্গে। তিনি জানান, করোনা রোগীর ভারতীয় ভেরিয়েন্টের কোনো তথ্য আইইডিসিআর থেকে তারা পাননি। আইইডিসিআর থেকে তথ্য পাওয়ার পরই তারা এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris