এফএনএস : সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্ত সাপেক্ষে কারামুক্ত আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এখন তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিতে শর্ত শিথিলের সুযোগ আছে কিনা তা বিবেচনা করার কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে আবাসিক অফিসে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। আনিসুল হক বলেন, সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুসারে বেগম খালেদা জিয়ার সাজা এবং দণ্ডাদেশ প্রথমে ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে। দুইবার সে স্থগিতাদেশ বাড়ানো হয়। আইনে বলা আছে, সাজা স্থগিতের বিষয়টি শর্ত সাপেক্ষে হতে পারে, আবার নাও পারে। কিন্তু তার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত দেওয়া ছিল।
সেসব শর্ত মেনেই স্থগিতাদেশ তারা গ্রহণ করেছিল। শর্ত ছিল, তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না এবং দেশের ভেতরে থেকেই চিকিৎসা নেবেন। এই দুটি শর্ত এখনও আছে। সেক্ষেত্রে ৪০১ ধারা কার্য সম্পাদন হয়েছে, সরকারের নির্দেশেই এটা হয়েছে। এখানে আদালতের কিছু করার নেই। এখন আমাদের দেখতে হবে ৪০১ ধারায় শর্ত শিথিল করার সুযোগ আছে কিনা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, ৪০১ ধারার শর্তগুলো রিভাইস করার সুযোগ আছে কিনা সেটা দেখতে হবে। আবেদনপত্র (বিদেশ যাওয়ার) এখনও দেখিনি। আগে দেখি তারপর সিদ্ধান্ত জানাবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময়ই বিষয়টি মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করছেন দেখেই সাজা স্থগিত করা হয়েছে। আমরা সব সময়ই এসব মানবিক দিক থেকে দেখি।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানোর আবেদনে কোনো দেশের নাম উল্লেখ নেই বলে জানিয়েছেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয় থেকে এ-সংক্রান্ত নথিপত্র আইনমন্ত্রীর বাসায় নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের এ কথা জানান সচিব। খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যত্যয় আছে কি-না জানতে চাইলে সচিব বলেন, এ বিষয়ে মাননীয় মন্ত্রী কথা বলবেন। আমি কিছু বলব না। বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা আছে কি-না, আবারও জানতে চাইলে গোলাম সারওয়ার বলেন, এটা মন্ত্রী বলবেন, শামীম ইস্কান্দার সাহেব বিদেশ নেয়ার জন্য আবেদন করেছেন, এটা রিপোর্টে আছে।