মচমইল থেকে সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় এক কৃষককে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে কৃষককে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। এসময় জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন করে পুলিশের সহযোগিতায় আহত কৃষককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ওই কৃষকের নাম আলাউদ্দিন আলী (৪০)। তিনি উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের মাঝিগ্রামের আজিমুদ্দিনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, গতকাল মঙ্গলবার রাতে আলাউদ্দিন আলী গ্রামের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওই গ্রামের টিপু সুলতান ও পাশের চকমহব্বতপুর গ্রামের দেলশাদ আলী নামের দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসেন। তাঁরা চায়ের দোকান থেকে ৩০-৪০ গজ দূরে অন্ধকারে মোটরসাইকেল থামিয়ে সেখানে অপেক্ষা করেন। এক পর্যায়ে টিপু সুলতান চায়ের দোকান থেকে কৃষক আলাউদ্দিনকে ডেকে পাঠান তিনি।
পূর্ব পরিচিত হওয়ার সুবাদে কৃষক সহজে তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে আসেন। কিছুক্ষণ পর তাঁরা কৃষককে ধরে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে তিনি চিৎকার শুরূ করলে চায়ের দোকান থেকে লোকজন ছুটে আসেন। লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই কৃষকের চোখে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে টিপু সুলতান পালিয়ে যান। পরে লোকজন মোটরসাইকেরসহ তাঁর সহযোগি দেলশাদ আলীকে ধরে ফেলেন।
এসময় সেখানে থাকা নাসিম নামের এক যুবক বিষয়টি জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন করেন। পরেরাত ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় কৃষকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই দেলশাদ আলী মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান। আহত কৃষকের পরিবার ও প্রতিবেশিরা জানান, টিপু সুলতান দাদন ব্যবসা করেন। দাদনের পাওনা টাকা নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিরোধ। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন।
কৃষকের পরিবার থেকে বলা হয়েছে, যে পরিমান দাদনের টাকা টাকা নেওয়া হয়েছিল তা পরিশোদ করা হয়েছে। এরপরেও অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন।তবে অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক বলেন, জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে। এই বিষয়ে তাঁকে (কৃষক) মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।