রবিবার

১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
যতক্ষণ প্রাণ থাকবে, দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব: প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ দিনব্যাপী ইন-হাউস প্রশিক্ষণ কর্মশালা লন্ডনে আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষায় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন রাজশাহীর ত্বাকি সবুজ ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে : এমপি মিলন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ পেলেন বিএনপি নেতা সুইট বৃদ্ধ খুন : নওগাঁয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আসামিপক্ষের বাড়িতে ভয়াবহ হামলা-আগুন হামলা থেকে সরে এসে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প লালপুরে প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ার ও নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিলেন প্রতিমন্ত্রী পুতুল ভারী বর্ষণে রুয়েটের আবাসিক হলে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞানচর্চার উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারলে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব : এমপি মিলন

বাগমারায় গৃহবধুকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ, শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

Paris
Update : শনিবার, ১ মে, ২০২১

মচমইল থেকে সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় প্রেমের বিয়ের দেড় মাসের মধ্যে এক গৃহবধূকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ নিহত গৃহবধূ সাবিনা খাতুনের (২৩) লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গৃহবধূর স্বামী সোহাগ হোসেন (১৭) ও শাশুড়ি রুপালি বেগমকে (৩৪) আটক করেছে। রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন দে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চানপাড়া গ্রামের তরুণ সোহাগ হোসেনের সঙ্গে পাশের মাঝগ্রামের সাবিনা ইয়াসমিন (২৩) নামের এক স্বামী পরিত্যাক্তা এক নারীর মুঠোফোনে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। দেড় মাস আগে সোহাগ হোসেন প্রেমিকার সঙ্গে তার বাড়িতে দেখা করতে গেলে তাকে আটকে রাখা হয়। এসময় ওই নারী তাঁকে বিয়ের দাবি জানান। পরে সোহাগের আত্নীয় স্বজনদের ডেকে উভয়ের সম্মতিতে নারীর সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলার চানপাড়ায় নানার বাড়িতে থাকতো সোহাগ।

গতকাল শুক্রবার সেহেরি খাওয়ার পর তারা একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে স্ত্রীকে রেখে বাড়ির বাইরে যান। বাড়িতে ফিরে স্ত্রী ঘুম থেকে না জাগলে ডাকাডাকি শুরু করে। এক পর্যায়ে বিছানায় মৃত অবস্থায় সাবিনা ইয়াসমিনকে আবিষ্কার করা হয়। থানায় খবর দেওয়া হলে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরাতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। লাশের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

গৃহবধূর মা ছামেনা বিবি অভিযোগ করেন, স্বামী ও শাশুড়ি তাঁর মেয়েকে গলাটিপে হত্যা করেছে। বিয়ের পর থেকে তারা মেনে নিতে পারেনি। বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, মেয়েকে মেরে ফেলে লাশ ঘরের ভেতরেই রেখেছে। মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন আত্নহত্যা করবে এমন কোনো কারণ ছিল না এবং বিছানায় মরে থাকবে এমন কোনো রোগও ছিল না। তবে দুপুরে সোহাগের মা রুপালী বেগম সাংবাদিকদের বলেন, মোবাইলের মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক হয়। সে সর্ম্পকের সূত্র ধরে একটি ঘটনার মধ্য দিয়ে দেড়মাস আগে উভয়ের মধ্যে বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালো সর্ম্পক ছিল। তাদের সঙ্গেও কোনো বিরোধ ছিল না। কী কারণে মারা গেছে তা বলতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

বাগমারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আফজাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এই ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি, তবে প্রস্তুতি চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত গৃহবধূর স্বামী ও তাঁর শাশুড়িকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য থানায় আনা হয়েছে। কাল শনিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।

এদিকে, রাজশাহীর বাগমারায় এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ওই শিশুর নাম মারুফ হাসান (৭)। সে উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে। মৃত্যু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার বাবা, দুই চাচা ও সৎ মাকে থানায় নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও এলাকা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে শিশু মারুফ হাসানকে বাড়িতে সৎমায়ের কাছে রেখে তার বাবা শাহজাহান আলী কাজের জন্য বাইরে যান। শিশুটি অস্বাভাবিক আচরণ করছে বলে সৎ মা মুক্তা বেগম মুঠোফোনে তার স্বামীকে জানান। স্বামীর পরামর্শে পড়া পানি শিশুর নাকে মুখে ছিটিয়ে দেওয়া হয়।

এতে কোনো উন্নতি হয়নি। এক পর্যায়ে শিশু অচেতন হয়ে পড়ে। এসময় চাচা ও প্রতিবেশিরাও ছুটে এসে শিশুর চেতনা ফেরানোর চেষ্টা করে। তবে শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে শিশু মারা যায়। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে মা মারুফা বেগমও বাবার বাড়ি থেকে ছুটে আসেন। ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুর লাশের সুরাতহাল প্রতিবেদন প্রস্তত করে।

ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। মারুফের শাহাজাহান আলী ও সৎ মা মুক্তা খাতুন ও কয়েকজন প্রতিবেশি বলেন, সে প্রায়ই অস্বাভাবিক আচরণ করতো। মাঝে মধ্যে অচেতন হয়ে যেত। শিশুকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। বাগমারা থানার উপপরিদর্শক রিপন কুমার জানান, এই ঘটনা সর্ম্পকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। এখনো মামলা হয়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য উদ্ধার করা হয়েছে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris