মঙ্গলবার

১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
প্রচণ্ড গরমে নগরীতে সামাজিক সংগঠন ‘হেল্প ডোর’র বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন বিতরণ জনতা ব্যাংক কাদিরগঞ্জ শাখার এটিএম বুথের উদ্বোধন রাজশাহী বহুমুখী বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন রাজশাহীর ডিসি জীবিকার তাগিদে একসময়ের যাত্রার নায়ক সামাদের কাঁধে এখন দোতারা রাজশাহীকে বাসযোগ্য শহর গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় আরডিএ’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের গোদাগাড়ীতে মাদক ও কিশোর অপরাধকে লাল কার্ড প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের শপথ আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যানের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ দুবাইয়ে গ্রেফতার বেনজীর, দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটের দায়িত্ব গ্রহণ

বাগমারায় প্রতিপক্ষের হামলায় একব্যক্তি নিহত, ৩ জন আটক

Paris
Update : শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১

মচমইল থেকে সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে হাবিল কাজী (৪০) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। ওই ঘটনায় নিহতের পরিবারের আরো ১০ জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গনিপুর ইউনিয়নের মাধাইমুড়ি গ্রামে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৫জনকে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন নিহতের পিতা আজিমুদ্দীন কাজী (৬৫), চাচা আব্দুর রাজ্জাক (৫০), ছেলে সৈকত (১৬), প্রতিবেশেী আব্দুস সাত্তারের ছেলে জুয়েল রানা (২৫), মুনছুর রহমান (৪৬) কে উন্নয়ন চিকিৎসার জন্য মেডিকলে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়াও নিহতের ছোট ভাই হাফিজুর সহ বেশ কয়েকজনকে বাড়িতেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই হাফিজ বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের নারী-পুরুষ সহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়েরের করেছে। উক্ত মামলার তিন জন মহিলা আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আকলিমা বেগম, ফাইমা বিবি এবং রফেলা বেগম। শুক্রবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানাগেছে, নিহতের পিতা আজিমুদ্দীন কাজী ১৯৭৩-৭৪ সালে একই গ্রামের মৃত আসতুল্লাহর কাছ থেকে জমি ক্রয় করে চাষবাদ করে আসছিল। অন্যদিকে তার বোন ছবেজানের নিকট থেকে ১৯৮৩ সালে আবারও জমি ক্রয় করে আজিমুদ্দীন কাজী। সেই জমি ফিরে পেতে একটি পেনশন জারি করে আসতুল্লাহ। পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে মহামান্য আদালত আসতুল্লাহর করা পেনশন বাতিল করে আজিমুদ্দীন কাজীর নামে রায় দেয় আদালত। জমিটি ক্রয়ের পর থেকে আজিমুদ্দীন কাজী ভোকদখল করে আসছিল।

এদিকে ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে মৃত আসতুল্লাহর ছেলেরা এবং তারই ভাই সেফাতুল্লাহ সহ তার ছেলে একটি ভূয়া দলিল করে জমিটি নিজেদের বলে দাবী করে। বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ সহ স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমঝোতা বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সেই বৈঠক না হতেই পেশির জোরে বিভিন্ন সময় আজিমুদ্দীন সহ তার পরিবারের কারো না কারো লাশ ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে আসছিল।

এদিকে নিহত হাবিল কাজী এবং তার একমাত্র ছেলে সৈকত পান বরজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন এমন সময় তাদের পথ আটকিয়ে দেয় প্রতিপক্ষ মৃত আসতুল্লাহর ছেলে সহ সেফাতুল্লাহ ও তার ছেলে এবং তাদের বউ এরা। বিষয়টি তখন থেমে যায়। পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হাবিল কাজী সন্ধ্যায় যখন বাড়ির বাহির হলেই আগে থেকেই উতপেতে থাকা অবস্থায় লাঠিসোটা, লোহার রড, হাসুয়া, কোদাল সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় তার উপরে। সেই সময় তাকে একা পেয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে প্রতিপক্ষরা। পরে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে মারা যায় হাবিল কাজী বলে জানাগেছে।

বিষয়টি বুঝতে পেরে হাবিলের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে তাদের উপরেও হামলা করে তারা। এতে পাঁচ জনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ সহ সংগীয় ফোর্স। সেই সাথে রাজশাহী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাইকে হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। অন্যদিকে যারা এই হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত তারা সঙ্গে সঙ্গে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। এ ব্যাপারে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, নিহতের ঘটনায় মামলার হয়েছে। আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris