এফএনএস : মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালিয়ে ৬০ জনকে হত্যা করেছে সামরিক জান্তা। শুক্রবার দেশটির কেন্দ্রীয় শহর বাগোতে নির্বিচারে হত্যার পর মরদেহগুলি সরিয়ে ফেলেছে জান্তা সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী। এ ছাড়া বিক্ষোভকারীদের ধরতে রাতভর বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালিয়েছে তারা। দেশটিতে চলমান বিক্ষোভ দমনে জান্তা বাহিনী বন্দুকের পাশাপাশি মেশিনগান এবং মর্টার শেল ব্যবহার করছে। রেডিও ফ্রি এশিয়া জানিয়েছে, শুক্রবার মিয়ানমারের বাগো শহরে গুলিবৃষ্টি চালিয়েছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
রাজপথে বিক্ষোভকারীদের ব্যারিকেডও তুলে নিয়েছে তারা।রাতভর জান্তার তান্ডবে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মরদেহগুলিকে সংগ্রহ করে সেনারা জেয়ামুনি প্যাগোডা এবং কাছাকাছি একটি স্কুলে জড়ো করেছে। এদিকে ভারত সংলগ্ন মিয়ানমারের সীমান্ত থেকে শত শত মানুষ ভারতে পালিয়ে গিয়ে শরনার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি। রেডিও ফ্রি এশিয়ার তথ্যমতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে মিয়ানমারে অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনে সেনাবাহিনীর দমনপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জাতিগত সশস্ত্র বাহিনীগুলোর একটি জোট দেশটির পূর্বাঞ্চলের একটি থানায় হামলা চালিয়েছে। শনিবার স্থানীয় সময় সকালের দিকে শান রাজ্যের নউংমনে ওই হামলায় অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য নিহতও হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। জান্তাবিরোধী এ বাহিনীতে আরাকান আর্মি, তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মিও আছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
শনিবারের হামলায় অন্তত ১০ পুলিশ সদস্যের নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে শান নিউজ; সংবাদমাধ্যম শোয়ে ফি মেয়ায় বলছে, নিহতের এ সংখ্যা ১৪। থানায় হামলা প্রসঙ্গে সামরিক জান্তার মুখপাত্রের মন্তব্য নিতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিকাল প্রিজনার্সের হিসাবে, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন পর্যন্ত ৬০০রও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।