মোদি : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মদিন পালন উপলক্ষে এ মহান নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর সকল ভারতীয়র কাছেও একজন বীর। এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধুকে মানবাধিকার ও স্বাধীনতার বিজয়ী এক নেতা হিসেবে অভিহিত করেন। আগামী ২৬ ও ২৭ মার্চ আসন্ন বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে গতকাল বুধবার মোদি তার টুইটার বার্তায় লেখেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে মানবাধিকার ও স্বাধীনতার বিজয়ী এ মহান নেতার প্রতি আমি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু) সকল ভারতীয়র কাছেও একজন বীর। ঐতিহাসিক মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে এ মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশ সফর আমার জন্য অনেক সম্মানের হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্মানিত অতিথি হিসেবে ২৬ মার্চ বংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে আগামী ২৬ ও ২৭ মার্চ বংলাদেশ সফর করবেন। করোনা ভাইরাস মহামারী শুরুর পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এটাই হবে প্রথম বিদেশ সফর।-এফএনএস
শি জিনপিং : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চীনের দীর্ঘদিনের ভালো একজন বন্ধু ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ১৯৫২ এবং ১৯৫৭ সালে চীন সফরের মাধ্যমে সেসময়ের চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে শেখ মুজিব সুসম্পর্ক তৈরি করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বুধবার দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় এ মন্তব্য করেন শি জিনপিং। শি জিনপিং বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান চীনের খুবই পুরনো এবং ভালো একজন বন্ধ ছিলেন।
১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে চীন সফরকালে মাও সেতুং সহ সেসময় অন্যান্য শীর্ষ চীনা নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করেছেন। আমরা কখনই আমাদের পূর্বসূরিদের ভুলবো না। তারা দু’দেশের মধ্যেকার সুসম্পর্কের যে ভীত তৈরি করে দিয়ে গেছেন, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তা নতুন প্রজন্মকে বুঝিয়ে দেওয়া। ৫০ বছর আগে শেখ মুজিব এ দেশের গোড়াপত্তন করেন। তিনি তার জীবন এ দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করেছেন। ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন তা আজও ১৬ কোটি মানুষকে উৎসাহিত করে।
নিজ বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন চীনের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দারুণ কিছু সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ পুনর্গঠন ও উন্নয়নের দিকে মনোযোগী হয়েছে এবং দ্রুত বর্ধনশীল বিশ্বের কাতারে নিজেদের স্থান করে নিয়েছে। ৬ শতাংশের অধিক জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) মাধ্যমে বাংলাদেশ তার দেশের মানুষের জীবনকে উন্নত করছে এবং বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। চীন বাংলাদেশের এমন উন্নয়নে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে।
চীন ও বাংলাদেশের মধ্যেকার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শি জিনপিং বলেন, চীন ও বাংলাদেশ সবসময়ই বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশি রাষ্ট্র। ঐতিহাসিক সিল্ক রোড বছরের পর বছর ধরে দু’দেশের সেই সুসম্পর্কের সাক্ষী হয়ে আছে। ৪৬ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কে আমরা উভয়েই উভয়ের প্রতি সর্বদা সম্মান এবং সমতার সঙ্গে আচরণ করে আসছি। আমরা একে অপরকে সমর্থন করেছি এবং উন্নয়নের পথে একত্রে কাজ করে যাচ্ছি। সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে চীন সঙ্গী হতে পারে। বেল্ট অ্যান্ড রোড কো-অপারেশনে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে থেকে স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশও বাংলাদেশ।
মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন আপসহীন নেতা ছিলেন বলে উল্লেখ করেছে মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ বলেছেন, তিনি জীবনের বেশিরভাগ সময়ে বাংলাদেশকে স্বাধীনতার লক্ষ্য নিয়েই রাজনীতি করেছেন। সে লক্ষ্যেই তিনি ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেছিলেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি।
করোনাকালে সহায়তার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ বলেন, করোনা ভাইরাস চলাকালে বাংলাদেশ মালদ্বীপকে যে ওষুধ ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছে, তার জন্য মালদ্বীপ বাংলাদেশের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবে। তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার একজন অন্যতম বড় নেতা। মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সাথে মালদ্বীপ অংশীদারত্ব বাড়াতে আগ্রহী। দুই দেশ আগামীতে শক্তিশালী বন্ধুত্বের মধ্যে দিয়ে একে অপরকে বিভিন্নখাতে সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করবে।
প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মালদ্বীপের ফাস্টলেডি ফাজনা আহমেদ, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের স্ত্রী রাশিদা খানম, বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানাসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থা প্রধান, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গতকাল বুধবার সকালে ঢাকায় আসেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ। আজ বৃহস্পতিবার তিনি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। আগামী ১৯ মার্চ সকালে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার স্ত্রী, সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রী ও অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তারা তার সফরসঙ্গী হয়েছেন।
ট্রুডো : ১৯৮৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোর সঙ্গে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন তার ছেলে ও কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ওই বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন বাংলাদেশকে মেলাতে পরছেন না তিনি। বঙ্গবন্ধু জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবে গতকাল বুধবার এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, আমি যখন আমার বাবার সঙ্গে বাংলাদেশ সফর করেছিলাম ওই সময় থেকে বাংলাদেশ অনেক পরিবর্তন হয়েছে। গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছে।
এই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে, দারিদ্রতা কমেছে, শিক্ষার হার বেড়েছে এবং স্বাস্থ্য সেবার প্রসার ঘটেছে। এরফলে দেশের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একজন ব্যক্তির কারণে ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব সেটি শেখ মুজিবুর রহমান করে দেখিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের ভিশন বাস্তবে পরিণত হয়েছে কারণ তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন মানুষকে। ট্রুডো বলেন, আজকে আমরা উৎসব করতে পারছি শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক একটি দেশ গড়ার ভিশনের কারণে।
এটি সম্ভব হয়েছে এদেশের মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার জন্য। আমার পিতার সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের দৃঢ় সম্পর্ক ছিল। ওই সময় থেকে দুদেশ দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখছে। তিনি বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আমূল রূপান্তর হয়েছে এবং এই পথযাত্রায় কানাডা অংশীদার হিসাবে আছে। আমরা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছি এবং নারী অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নে সহায়তা করছি। শিশুস্বাস্থ্য ও শিক্ষা, যুব সম্প্রদায়ের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কাজে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কানাডা।