২ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

সত্য উদঘাটন-বস্তুনিষ্ঠতাই সাংবাদিকতার মৌলিক মানদণ্ড : তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২ আগস্ট ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়, জাতীয় খবর
সত্য উদঘাটন-বস্তুনিষ্ঠতাই সাংবাদিকতার মৌলিক মানদণ্ড : তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপন

সত্য উদঘাটন ও বস্তুনিষ্ঠতাকে সঠিক সাংবাদিকতার মৌলিক মানদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, জনকল্যাণ সাংবাদিকতার অন্যতম লক্ষ্য হলেও সেই লক্ষ্য অর্জনের পূর্বশর্ত হচ্ছে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা। রোববার (০২ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘রাজনীতি, ক্ষমতা ও সাংবাদিকতার আন্তঃসংশ্লেষ: তত্ত্ব, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুখ্য আলোচক ছিলেন দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর। তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য কিংবা অবস্থান সত্য অনুসন্ধানকে প্রভাবিত করলে সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই সাংবাদিককে সবার আগে সত্য অনুসন্ধান এবং তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে তথ্যের সংকট নেই। বরং তথ্যের অতিপ্রবাহ নতুন বাস্তবতা সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে অপতথ্য, বিকৃত তথ্য এবং পরিকল্পিত বিভ্রান্তি গণতন্ত্র, রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এই বাস্তবতায় সাংবাদিকতার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে তথ্য যাচাই করে সত্য উদঘাটন করা এবং বস্তুনিষ্ঠতার ভিত্তিতে তা জনগণের সামনে তুলে ধরা।’ সাংবাদিকতা শুধু তথ্য পরিবেশনের পেশা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে সাংবাদিকতা। স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ছাড়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী হতে পারে না। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক মর্যাদা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তথ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে অপতথ্য মোকাবিলায় সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
সেমিনারের প্রশ্নোত্তর পর্বে বাকস্বাধীনতা প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাকস্বাধীনতার সীমা নির্ধারণ একটি জটিল বিষয়। প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজস্ব রাজনৈতিক, দার্শনিক ও আদর্শিক অবস্থান থেকে মত প্রকাশ করেন। ফলে মতের ভিন্নতা থাকবেই। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্ববোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতা, স্বাধীনতা ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সরকার গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা, স্বাধীনতা এবং দায়িত্ব-এই তিনটি উপাদানকে সমন্বিত করেই আমরা গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে চাই। এটি হবে সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে গঠিত একটি অংশগ্রহণমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।’ এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এই ক্যাম্পাসে কাটানো দিনগুলো তার জীবনের অন্যতম মূল্যবান সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসা তার মধ্যে গভীর নস্টালজিয়ার অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনার সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।-এফএনএস

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন