প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর : সুপ্ত আশা-প্রত্যাশা দানা বেঁধেছে মানুষের মাঝে
স্টাফ রিপোর্টার : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর। দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজশাহীর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানানো ও দলীয় জনসভায় উপস্থিত হতে ঢাকা থেকে রংপুর হয়ে ২০ অক্টোবর রাজশাহীতে আসছেন তারেক রহমান। পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক রাজনৈতিক চাপে দীর্ঘসময় বাধ্য হয়ে ছিলেন ভিনদেশে। প্রার দেড়যুগ পর দেশের ছেলে দেশে ফিরে যোগ্যতা ও সাধারণ মানুষের ভোটে বিজয়ী হয়ে অভিষ্ঠিত হয়েছেন দেশের চালকের আসীনে। দলের প্রধান কান্ডারি ও দেশের চালকের এই আগমনকে ঘিরে অন্যান্য অঞ্চলের মতো রাজশাহী শহরের সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে রাজশাহীর স্বার্থে অনেক চাওয়া পাওয়া আর আকাঙ্খা সুপ্ত হয়ে আছে বহুকাল ধরে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও রাজশাহীবাসির মন্তব্য হলো এই সফরে তিনি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন এবং ধর্মসভা মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠে তৈরি হচ্ছে বিশাল স্টেজ। সাজসাজ রব চলছে মাদ্রাসা মাঠ ঘিরে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মানুষের মাঝে আনন্দ উল্লাসের পাশাপাশি উঁকি দিচ্ছে রাজশাহী কেন্দ্রিক নানামূখী উন্নয়নের প্রত্যাশা ও আকাঙ্খা। দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা রাজশাহীর কৃষি অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানসহ ভেদাভেদের বিষয়কে চিরতরে নির্মূল করে বিএনপি-কে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলা।
উত্তরাঞ্চলের বন্ধ বা স্থবির হয়ে পড়া চিনি শিল্প পুনরুজ্জীবন, আখচাষিদের জন্য বিশেষ সুবিধা এবং কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরাসহ সংশ্লিষ্টদের। দেশের খ্যাতিসম্পন্ন সেরিকালচারটিকে আরোবেশি উৎপাদনমূখী ও পূর্বের সুনাম ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশাও করেন স্থানীয়রা। এছাড়াও রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর, একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ দ্রুত শেষ করা এবং রাজশাহীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষানগরী’ হিসেবে ঘোষণা করার জোরালো দাবি রয়েছে।
রাজশাহীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সময়ের দাবি বলে পরিচিত অন্যতম দাবি হলো, পিছিয়ে পড়া এই শহরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টিও। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি এই অঞ্চলের বেকারত্ব দূরীকরণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নেবে বলে স্থানীয়রা আশা করছেন। বিমান চত্বর থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণ, বরেন্দ্র জাদুঘর ও ফায়ার সার্ভিস মোড় পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তকরণ এবং ৩০টি ওয়ার্ডের খেলার মাঠ উন্নয়ন ও সিনিয়র সিটিজেন পার্ক নির্মাণের মতো প্রকল্পগুলো গতির প্রতি সুনজর আরো বেশি বাড়ানোর প্রতাশ্যাও করেন স্থানীয়রাসহ দলের নেতাকর্মীরা।
আজ মঙ্গলবার এ সফরে তিনি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রাজশাহীতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রাজশাহীতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। সফরকে কেন্দ্র করে জনসভাস্থল প্রস্তুত, নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তার এ সফরের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর উন্নয়ন কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করছেন তারা। মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন করবেন। পরে বিকেলে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন। প্রধানমন্ত্রী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীতেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান চত্বর থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণ, কুমারপাড়া গুলগফুর পেট্রল পাম্প থেকে বড়কুঠি হয়ে বরেন্দ্র জাদুঘর এবং ফায়ার ব্রিগেড মোড় পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ। এছাড়া নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠের উন্নয়ন, ফুটসাল গ্রাউন্ড ও সিনিয়র সিটিজেন পার্ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। রাসিক প্রশাসক বলেন, অতীতে বিএনপি সরকারের আমলে রাজশাহীতে স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট, রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছিল। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবারও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
