অবহেলা আর অযত্নে পড়ে আছে ঈশ্বরদী বিমান বন্দর
শাহ আলম সেলিম, লালপুর : অবহেলা আর অযত্নে দীর্ঘ দিন অচল অবস্থায় থাকায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে ঈশ্বরদী বিমান বন্দর। ফলে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে যাত্রীরা। আর লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। নাটোরের লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নে অবস্থিত ঈশ্বরদী বিমান বন্দরটি। তবে নাটোরের লালপুর উপজেলার ২নং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা বিমান বন্দরটি স্থাপিত হওয়ায় নামকরণ করা হয়েছে ঈশ্বরদী বিমান বন্দর। এই জন্য ঈশ্বরদী বিমান বন্দর নামে পরিচিত। ৪৩৭ একর জমির ওপর স্থাপতি এই বিমান বন্দরটি। তবে এর মধ্যে ২৯১ একর জমি মিলিটারি ফার্মকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিমান বন্দরটির টার্মিনাল বিল্ডিং,রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে,অ্যাপ্রোন,নেভিশন ও সংযোগ সরঞ্জাম,অফিসারদের আবাসিক এলাকা এবং বিমান বন্দরে প্রবেশের রাস্তা রয়েছে। বিমান বন্দরটি চালু হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে বলে মনে করেন সচেতন মহল। জানা যায়,ব্রিটিশ শাসনামলে ঢাকা ও চট্রগ্রাম বিমান বন্দর স্থাপনের পরেই ১৯৪০ থেকে ১৯৪৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঈশ্বরদী বিমান বন্দর স্থাপিত হয়। ১৯৪৫ সালের ৮ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান বাহিনীর ২০ তম রোমারু বাহিনী এই বিমান বন্দর ব্যবহার করেছিল। ২য় বিশ্ব যুদ্ধের সময় এই বিমান বন্দর হিজলি বেজ এলাকা নামে পরিচিত ছিল। ১৯৬৫ সালে বিমানের ফ্লাইট চালু হয়। এবং ঢাকার সাথে যোগাযোগের জন্য নিয়মিত ২টি ফ্লাইট চলাচল করত। ১৯৮৭ সালে নানান অজুহাতে বিমান বন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। যার মধ্যে লোকসান ছিল অন্যতম। দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করে ১৯৯৪ সালে বিমান বন্দরটি পুনরায় চালু করা হয়। কিন্তু ১৯৯৬ সালে বিমান বন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৯৮ সালে এই বিমান বন্দর থেকে এয়ার পারাবতের ফ্লাইট চালু হলেও ওই বছরের মাঝামাঝি সময় বিমান বন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। দীর্ঘ বছর বন্ধ থাকার পর পুনরায় ২০১৩ সালে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বাণিজ্যিক বিমান ঈশ্বরদী বিমান বন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেন। কিন্তু ৬ মাস ১১ দিন চালু থাকার পর ২০১৪ সালের ২৯ মে আবারও বিমান বন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে মাঝে মধ্যে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান গুলো এই বিমান বন্দরে ব্যবহার করতো বলে জানা গেছে। নাটোর ও পাবনা সহ কুষ্টিয়া জেলার মানুষের রাজধানী ঢাকায় সহজেই পৌছার জন্য ঈশ্বরদী বিমান বন্দরটি চালু করা জরুরি প্রয়োজন। এছাড়া পাবনার রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র,ঈশ্বরদী ইপিজেড ঘিরে হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক বসবাস করেন এই অঞ্চলে। জরুরি প্রয়োজনে রাজধানী ঢাকার যেতে হলে সড়ক ও রেল পথে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়। এবং যাতায়েতের সময় ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের। উত্তরবঙ্গের ভারী শিল্প নাটোরের লালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস,পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র,ইপিজেড ও ৫টি সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সহ ছোট-বড় নানা শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিমান বন্দরটি চালু হলে নাটোর,পাবনা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ সহজের পাশাপাশি অর্থেনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাবে। অকোজে হয়ে থাকায় বিমান চলাচল বন্ধ থাকার কারণে রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ঈশ্বরদী ইপিজেড এর মামলামাল সহ বিভিন্ন জরুরি কাজে সময়ক্ষেপন করতে হয়। এসব স্থাপনার মালামাল ও কর্মকর্তারা সহ বিপুল পরিমান মানুষের যাতায়াতের জন্য বিমান বন্দরটি চালু করে নিয়মিত বিমান চলাচলার ব্যবস্থা করার জরুরি প্রয়োজন মনে করেন সচেতনমহল। এবিষয়ে লালপুরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ হোসেন ভূইঁয়া বলেন,চিনি ও খাদ্য কপোরেশন এর চেয়ারম্যান মহদোয় সহ উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা বিমান যোগে আসলে রাজশাহী বিমান বন্দরে নামা লাগে। রাজশাহী থেকে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে আসতে অনেক সময় ব্যয় হয়ে যায়। ভবিষ্যতে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের শিল্প পার্ক সহ বিভিন্ন স্থাপনা হলে বিদেশী নাগরিকরা আসবেন। অল্প সময়ের মধ্যে ঢাকায় যাতায়েতের জন্য ঈশ্বরদী বিমান বন্দরটি সচ্ছল করে ফ্লাইট চালু করা জরুরি প্রয়োজন। এবিষয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন,ইতি মধ্যে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিঘ্রই বিমানবন্দরটি চালু হবে।
