১৯ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi
শিরোনাম
বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষের আশানুরূপ খাদ্যের যোগান দিচ্ছে বিএমডিএশেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত রাজশাহীপ্রধানমন্ত্রীর নিকট রাজশাহীতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে উপস্থাপন করা হবে : রাসিক প্রশাসকরাজশাহীর ঐতিহ্য-গৌরবের ধারক বরেন্দ্র কলেজ জাতীয়করণ দাবিকৃষ্ণ-হরিদ্রা রঙের ছোঁয়া ভিআইপি সড়কে ধর্মসভার মন্ডপ হপিংয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রীপ্রধানমন্ত্রীর আগমনে রাজশাহীর উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা আরও বাড়বে: রাসিক প্রশাসকসুইমিংপুল অপসারণ করতে গিয়ে হুমকীর মূখে আরডিএ’র অভিযান দলশুদ্ধ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিতের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার পেল রাসিক

রাজশাহীর ঐতিহ্য-গৌরবের ধারক বরেন্দ্র কলেজ জাতীয়করণ দাবি

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: শিক্ষানগর, স্পেশাল নিউজ
রাজশাহীর ঐতিহ্য-গৌরবের ধারক বরেন্দ্র কলেজ জাতীয়করণ দাবি
বিজ্ঞাপন

মাসুদ রানা : রাজশাহীর শিক্ষাঙ্গনে ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও সুনামের পরিচিত নাম বরেন্দ্র কলেজ। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার প্রসার ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রেখে চলেছে। মনোরম পরিবেশ, সুশৃঙ্খল শিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষাবান্ধব আবহে গড়ে ওঠা কলেজটিতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। তবে দীর্ঘ পথচলার পরও প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের আওতায় না আসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এ দাবি গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাকালে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী নিয়ে মালঞ্চি হাউসে যাত্রা শুরু করে বরেন্দ্র কলেজ। তৎকালিন ভূমি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কবির হোসেন, অ্যাডভোকেট কামরুল মনির, অ্যাডভোকেট নজরুল হুদা, আসলাম সরকার, তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মুরাদুজ্জামান এবং অধ্যক্ষ অনিল কুমার সাহাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠার পর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে কলেজটি নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে। সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও শিক্ষার চাহিদা বেড়েছে। সেই সঙ্গে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে।
বরেন্দ্র কলেজের ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, সমৃদ্ধ পাঠাগার, আধুনিক বিজ্ঞানাগার, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বর্তমান অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা কলেজটিকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তুলতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
কলেজটির মনোরম পরিবেশ ও সুশৃঙ্খল শিক্ষা কার্যক্রমও এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এ পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যজ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ বিকাশে আরও উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, তৎকালীন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মরহুম অ্যাডভোকেট কবির হোসেনের প্রচেষ্টায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় কলেজটির জন্য প্রায়.২৮ একর জমি এক টাকা মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সম্প্রতি ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি, কলেজটিকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ঘোষণাকে ঘিরে কলেজটির উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষক, উন্নত শিক্ষা উপকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন।
বরেন্দ্র কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের অবদান, বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে জাতীয়করণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে।
তাঁদের মতে, ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও সমৃদ্ধ করতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং কার্যকর প্রশাসনিক সহায়তা। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রাজশাহীর শিক্ষাঙ্গনে বরেন্দ্র কলেজের ঐতিহ্য ও অবস্থান ধরে রেখে প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক, মানসম্মত ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই এখন বড় প্রত্যাশা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও নীতিগত মূল্যায়নের মাধ্যমে জাতীয়করণের দাবিটি বিবেচনা করবে—এমন আশাবাদ রয়েছে কলেজটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন