স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি যে সড়কে
স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ : স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নওগাঁর মান্দা ও মহাদেবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকটি সড়কে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। এসব এলাকার বেশ কিছু সড়ক এখনো কাঁচা। এর মধ্যে কিছু অংশে এইচবিবি সড়ক নির্মাণের পর দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় উঠে গেছে ইট। তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নওগাঁর মান্দা উপজেলার গণেশপুর ইউনিয়ন ও মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এসব এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। নির্বাচনের সময় রাস্তা সংস্কার ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্বাচন শেষ হলে অনেক সময় এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যায় না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গণেশপুর ইউনিয়নের সতীহাট বাজারের উত্তর-পশ্চিম কর্ণার, অর্থাৎ সরকারের ব্রয়লারের মোড় থেকে উত্তর দিকে বিমল মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত নির্মিত এইচবিবি সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গেছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট ভেঙে উঠে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক জায়গায় ইট না থাকায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও আবার ইঁদুরের গর্তে সড়কের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণেও নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি নষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে, মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের কদমতলী মোড়ের পশ্চিম দিকে গণেশপুর ইউনিয়নের কারিগরপাড়ার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা আলিম হাজীর বাড়ি হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশ্বনাথ মণ্ডলের বাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়ে আদিবাসীপাড়া সংলগ্ন বাঁশার পুকুরের মোড় পর্যন্ত সড়কটিও দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কাদায় একাকার হয়ে যায়। ফলে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, অনেক সময় পায়ে হেঁটেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
ওমর ফারুক, রবিউল ইসলাম, বয়েজ উদ্দিন মোল্লা এবং স্বপনসহ স্থানীয়রা জানান, এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য হাট-বাজারে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত এবং অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে এসব সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
সাংবাদিক মাহবুবুজ্জামান সেতুসহ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, বছরের পর বছর ধরে সড়কগুলোর এমন অবস্থা থাকলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নের আশ্বাস দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে অনেক সময় তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায় না। তাদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে একটি এলাকার মানুষ যোগাযোগের এমন দুর্ভোগ পোহালেও কেন সড়কগুলোর স্থায়ী উন্নয়ন হচ্ছে না?
তারা দ্রুত সড়কগুলো সংস্কার ও পাকাকরণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।মান্দা উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বলেন, ওই এলাকার পথচারীদের ভোগান্তি নিরসনে ইতোমধ্যে এমপি মহোদয়ের সুপারিশক্রমে ইউনিব্লক রাস্তার জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে। মান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গণেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম চৌধুরী (বাবুল) বলেন, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি হাট-বাজার, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। আগামীতেও এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। তবে এলাকাটি দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকায় রাস্তা সংস্কারসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি। ৪৯ (নওগাঁ)-৪ মান্দা আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, ওই এলাকার পথচারীদের ভোগান্তি নিরসনে জনস্বার্থে ইতোমধ্যে ইউনিব্লক রাস্তার জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রাস্তাগুলোও পাকাকরণ করা হবে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে এবার শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্রুত সড়ক সংস্কার ও পাকাকরণের মাধ্যমে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে—এমনটাই দাবি তাদের।
