৮ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

নওগাঁয় ডলার প্রতারণা চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৮ আগস্ট ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: আইন-আদালত, আঞ্চলিক
নওগাঁয় ডলার প্রতারণা চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ : নওগাঁর মান্দায় ডলার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তির ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, টাকা নেওয়ার পর ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে আরও ২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় জনতা টের পেলে পালিয়ে যায় প্রতারক চক্রের সদস্যরা। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় প্রধান আসামিসহ ডলার প্রতারক চক্রের ২ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের মধ্যমৈনম (সরদারপাড়া) গ্রামের হাফিজুর রহমান সবুজ (২৯) ও আব্দুল মতিন (২০)। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে মান্দা থানায় এই প্রতারণা ও ছিনতাইয়ের মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম। তিনি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পনার গ্রামের বাসিন্দা এবং ঢাকার ‘আল মদিনা ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি’তে কর্মরত আছেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত হাফিজুর রহমান সবুজ ওই রিক্রুটিং এজেন্সির এজেন্ট হিসেবে কাজ করার সুবাদে প্রতিষ্ঠানের মালিক ইউনুছ আলীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। গত ২৫ জুলাই হাফিজুর মুঠোফোনে বাদী আব্দুর রহিমকে জানান যে, তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের ডলার আছে, যা তিনি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ভাঙিয়ে টাকায় রূপান্তর করতে চান। আব্দুর রহিম বিষয়টি এজেন্সির মালিককে জানালে তারা ডলার নিতে সম্মত হন। এরপর গত ১ আগস্ট হাফিজুর সরাসরি ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে গিয়ে নমুনা হিসেবে ১০ ডলারের ৫টি আসল নোট দেখিয়ে তাদের শতভাগ আস্থা অর্জন করেন। পরবর্তীতে কথামতো গত ৫ আগস্ট ভোরে ঢাকা থেকে বাসযোগে নওগাঁয় পৌঁছান আব্দুর রহিম। সেখানে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক থেকে ৭ লাখ টাকা উত্তোলন করে দুপুরের দিকে হাফিজুরের সঙ্গে তাঁর বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। ওই দিন সন্ধ্যার দিকে ডলার নেওয়ার উদ্দেশ্যে হাফিজুরের হাতে ৫ লাখ টাকা তুলে দেন আব্দুর রহিম। কিন্তু টাকা পকেটে পুরেই ভোল পাল্টায় হাফিজুর। ডলার দেওয়ার নাম করে কৌশলে মোটরসাইকেলে করে আব্দুর রহিমকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মান্দা ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফেরিঘাট বাসস্ট্যান্ড এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বাসস্ট্যান্ড এলাকার শ্রমিক অফিসের পাশে একটি আন্ডারগ্রাউন্ড (ভূগর্ভস্থ) কক্ষে নিয়ে আব্দুর রহিমকে জিম্মি করা হয়। এ সময় হাফিজুরের সহযোগীরা তাঁর কাছে থাকা বাকি ২ লাখ টাকাও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী আব্দুর রহিমের আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও সাধারণ লোকজন ছুটে আসলে চক্রের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম বাদী হয়ে হাফিজুর রহমান সবুজ, আব্দুল মতিন, এনামুল হক, মাহফুজুর রহমান সুমন, জয়নাল, আল মামুন ও কনক কুমারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, “মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ তৎপর ভূমিকা নেয়। লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান চালিয়ে মূলহোতা হাফিজুর রহমান সবুজ ও আব্দুল মতিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় হাফিজুরের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নগদ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডলার প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন