২৮ জুলাই ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

চীনে ইতিহাস গড়লেন রাজশাহীর তাজ

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ | বিভাগ: খেলার খবর, স্পেশাল নিউজ
চীনে ইতিহাস গড়লেন রাজশাহীর তাজ
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : চীনের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন ইতিহাস গড়েছেন রাজশাহীর সন্তান ও বাংলাদেশি টেনিস কোচ তাজ মোহাম্মদ। চীনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ‘২৬তম শানডং প্রোভিন্সিয়াল গেমস’-এ (২৬ঃয ঝযধহফড়হম চৎড়ারহপরধষ এধসবং) প্রোভিন্সিয়াল দলের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে জোড়া স্বর্ণপদক জিতিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রথম বাংলাদেশি কোচ হিসেবে চীনের প্রোভিন্সিয়াল গেমসে কোনো দলকে নেতৃত্ব দিয়ে স্বর্ণ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। গত ১২ জুলাই শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় তাজ মোহাম্মদের প্রশিক্ষণে শানডং প্রদেশের লিনিই শহরের খেলোয়াড়রা অনূর্ধ্ব-১২ (ইউ-১২) পুরুষ একক এবং অনূর্ধ্ব-১৬ (ইউ-১৬) টেনিস বিভাগে স্বর্ণপদক জয় করে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে লিনিই শহর প্রথমবারের মতো শানডং প্রোভিন্সিয়াল গেমসের টেনিস ইভেন্টে স্বর্ণপদক অর্জনের গৌরব লাভ করে।
চীনের ক্রীড়া কাঠামোয় শানডং প্রোভিন্সিয়াল গেমসকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হওয়া এই আসরে অংশ নিতে খেলোয়াড়দের দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে র‌্যাঙ্কিং অর্জন করতে হয়। সেরা খেলোয়াড়রাই মূল পর্বে জায়গা পান। তাজ মোহাম্মদের পরিকল্পনা, দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত প্রস্তুতির ফলেই চার বছরের প্রচেষ্টার পর লিনিই শহর টেনিসে এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
রাজশাহীতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তাজ মোহাম্মদ ২০০৪ সালে রাজশাহী টেনিস ক্লাবে টেনিস খেলা শুরু করেন। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি টানা চার বছর আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশনের (আইটিএফ) বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। পরে কোচিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। গত নয় বছর ধরে তিনি চীনের বিভিন্ন শহরে টেনিস কোচ হিসেবে কাজ করছেন। এ সময়ে গুয়াংডংয়ের দংগুয়ান, সাংহাই ও গুয়াংসির ন্যানিংয়ের বিভিন্ন একাডেমি ও ক্লাবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি শানডং প্রদেশের লিনিই শহরের একটি স্বনামধন্য টেনিস ক্লাবের হেড কোচ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
ঐতিহাসিক এই সাফল্যের পর প্রতিক্রিয়ায় তাজ মোহাম্মদ বলেন, “রাজশাহী টেনিস ক্লাবে যখন খেলা শুরু করেছিলাম, তখন কখনো ভাবিনি একদিন চীনের মতো ক্রীড়াশক্তিধর দেশে ইতিহাস গড়ার সুযোগ পাব। গত দুই বছর ধরে খেলোয়াড়দের মানসিকতা, টেকনিক্যাল দক্ষতা ও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য কাজ করেছি। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে চীনের প্রোভিন্সিয়াল দলের হেড কোচ হয়ে এই সাফল্য অর্জন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এই সম্মান শুধু আমার নয়, পুরো বাংলাদেশের।”

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন