স্টাফ রির্পোটার : মেটাল এগ্রিটেক লিমিটেড কোম্পানীর গাড়ী (ট্রাক্টর) কিস্তিতে কিনে বিপাকে পড়েছেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার জাহাঙ্গীর আলম। গত ৫ আগষ্ঠ তার ক্রয়কৃত নতুন ট্রাক্টরটি ভাংচুর করে এলাকার চিহ্ন কতিপয় দুস্কৃতকারীরা। জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার ঝাড়গ্রামের সোলাইমান আলীর ছেলে। তখন থেকেই তিনি পড়েন চরম বিপাকে। সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী আছিয়া বেগম। আছিয়া বেগম বলেন, গত ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মেটাল এগ্রিটেক লিমিটেড কোম্পানীর রাজশাহী শাখা থেকে ১৮ লক্ষ ৮৮ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের মাটি চাষ করা একটি ট্রাক্টর ক্রয় করে আমার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম। ট্রাক্টরটির মূল্য নির্ধারন করা হলে নগদ ৪ লক্ষ টাকা ও স্বামীর হিসাবে এন,আর বি,সি ব্যাংক ভবানীগঞ্জ শাখার হিসাব নং ৬২৪৩৩১১০০০০৫৮০৪ ও এস বি, ৬৬৬৬৮৫০ নম্বরের একটি স্বাক্ষরিত সাদা চেক প্রদান করা হয়। ট্রাক্টরটি ক্রয় করার পর থেকে আমার স্বামী নিয়মিত কিস্তির টাকা প্রতি মাসের পরিশোধ করেন। গত ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের সাথে সাথে এলাকায় তান্ডব চালিয়ে আমাদের জমি চাষা ট্রাক্টরটি ভাংচুরের মাধ্যমে অকেজো করে ফেলে। তখন থেকে আমরা ট্রাক্টরটির মাসিক কিস্তি দিতে ব্যর্থ হয়। বিষয়টি আমরা কোম্পানীকে অবহিত করি। কোম্পানীর দায়ীত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন এবং গাড়ির ক্ষতির বিষয়টি দেখে যান। তারা আমার স্বামীকে কোন সহযোগীতা না করায় আমি ধার দেনা করে ট্রাক্টরটি মেরামত করার চেষ্টা করি। সেই সময় কোম্পানীর বিক্রি কর্মী মোস্তাফিজুর রহমান টাকা না দিয়ে গাড়িটি মেরামত করতে বাঁধা দেন। বর্তমানে কোম্পানী আমার স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে চেকটি ডিজঅর্নার করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই আমার স্বামী এলাকা ছাড়া হয়েছে। আমার স্বামী পেশায় একজন কৃষক। তিনি কোম্পানীর টাকা পরিশোধ করতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্য ও সন্তানদের নিয়ে চরম অসহায়েত্মের মধ্যে জীবন যাপন করছেন বলে স্ত্রী আছিয়া বেগম জানিয়েছেন। আছিয়া বেগম কোম্পানীর কর্মকর্তাদের সহানুভুতির মাধ্যমে সহযোগীতা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মেটাল এগ্রিটেক কোম্পানীর রাজশাহী জেলার বাগমারা থানার দায়ীত্ব প্রাপ্ত সেল্স অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে ট্রাক্টরটি ক্রয় করা হয়েছে সেটা তিনি অমান্য করেছেন। এছাড়াও নিয়মিত মাসিক কিস্তির টাকা পরিশোধ না করায় কোম্পানী তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন।