বৃহস্পতিবার

৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতৃবৃন্দর অভিযোগ, রাজশাহীতে আ’লীগের যোগসাজসে চলছে বিএনপি

Paris
Update : রবিবার, ১১ মে, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার : রবিবার (১১ মে) রাজশাহীর একটি রেস্টুরেন্টে মহানগর বিএনপির একাংশ অন্য একটি অংশের নেতাকর্মীর কর্মকান্ড ও মনগড়া কমিটি সহ বর্তমান স্থানীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সহ তাদের অঙ্গসংগঠণের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের মাধ্যমে রাজশাহী মহানগর বিএনপির কিছু নেতা সংগঠনের অভ্যন্তরে হাইব্রিডদের পুনর্বাসন করছেন।
তারা আরো বলেছেন, এই আশ্রয়-প্রশ্রয়ের মাধ্যমে দলটির মধ্যে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সরাসরি পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এতে মহানগর বিএনপিতে এখন “হাইব্রিডের বাম্পার ফলন” হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টু। এ সময় নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ স্ইুটসহ অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। সাইদুর রহমান পিন্টু বলেন, “বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পকেট কমিটি গঠন করা হচ্ছে। যেসব আওয়ামী সন্ত্রাসীর হাতে অতীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, তাদেরকেই এখন নগর বিএনপির কিছু নেতা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছেন।”
তিনি আরও বলেন, রাজপাড়া থানা বিএনপির বর্তমান সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন আহমেদ, মাহমুদুল হক রুবেল, হারুনুর রশিদ (সাবেক জাসদ নেতা), আব্দুর রাজ্জাক (সাবেক জাতীয় পার্টি নেতা) এবং কমিটির সদস্য বদরুদ্দোজা বদর বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তাদের বিএনপিতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এছাড়া সিটি নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষে প্রচারণা, ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করা সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার মতো ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নওহাটার সালাহউদ্দিন মিন্টুর বাড়িতে গুলিবর্ষণ করে তার বাবাকে হত্যা, নিউমার্কেট এলাকায় রিয়াজকে কুপিয়ে হত্যা এবং কাদিরগঞ্জে রিকশাচালক গোলাম হোসেনকে খুনের ঘটনার অভিযুক্তদের মধ্যে বেশিরভাগই অতীতে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাঁতী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তারা নগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মামুনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন সমিতি দখলের অভিযোগও তোলা হয় সংবাদ সম্মেলনে। বলা হয়, নজরুল হুদা, মামুনুর রশিদ মামুন ও মনিরুজ্জামান শরীফের নেতৃত্বে ৯ আগস্ট এই সমিতি দখল করা হয়। নজরুল ইসলাম হেলালকে অবৈধভাবে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দেওয়া হয়। মামুন আগে পেশিশক্তির মাধ্যমে বাস মালিক সমিতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

এছাড়া, নজরুল হুদার বিরুদ্ধে ব্রিটিশ কাউন্সিল অফিসের জায়গা দখলের অভিযোগ তুলে বলা হয়, আদালতের স্থিতাবস্থার নির্দেশনা থাকার পরও সেখানে থাকা ভবন জোড়পূর্বক দখল নিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাইদুর রহমান আরও বলেন, নগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা অনেকেই বিপুল অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের সময়কার হামলা ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের রক্ষা করতে বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন। আবার মামলার ভয় দেখিয়ে নিরপরাধ ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিদের কাছ থেকেও মোটা অংকের অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আব্দুল মমিনকে সিটি নির্বাচনে সহযোগিতা করাসহ ফুলের মালা দিয়ে বরণ করার কথাও অভিযোগ তুলে ধরা হয় নগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুনের বিরুদ্ধে। এই সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যের কপি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে নগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে তোলা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। যারা সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ করব, নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে দল, দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করুন। এটাই আমার বক্তব্য।”


আরোও অন্যান্য খবর
Paris