সর্বশেষ সংবাদ

কাজ শেষ না হতেই দেবে গেছে তানোর ব্রীজের সংযোগ সড়ক!

Paris
Update : শনিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৩

তানোর সংবাদদাতা
বিগত দেড় যুগ ধরে চলছে রাজশাহীর তানোর পৌর সদর বিলকুমারী বিল বা শীবনদীর সেতু সংযোগ সড়কের কাজ। কিন্ত কোনভাবেই শেষ হচ্ছেনা। একেবারে নিম্মমানের ইট খোয়া, ধূলা ও প্রয়োজনের তুলনায় সামন্য বালু ব্যবহার করার কারনে মাস না যেতেই দেবে গেছে। আজব কাজ করছেন শহরের ঠিকাদর আব্দুর রশিদ। ব্রীজের পূর্ব দিকের রাস্তার এইচবিবি কাজ সম্প্রতি চলাচলের উপযোগী হয়েছে, কিন্তু পশ্চিম দিকের রাস্তার ইট বালু উঠে ভয়াবহ গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পুরোদমে বিলের জমির ধান উত্তোলনের কাজ চলছে। কিন্তু রাস্তার গর্তের কারনে বাড়িতে আনতে পারছেন না ধান। ভ্যান ভটভটি কোন কিছুই চলার মত অবস্থা নেই। এতে করে কৃষকদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। আবার গত বৃহস্পতিবার পাথর বোঝায় ট্রাক পুতে যায়। যার কারনে দূর্ভোগের শেষ নেই কৃষক থেকে শুরু করে জনসাধারনের। একদিকে করছে তো আরেক দিকে ভাঙ্গছে,আবার দীর্ঘ সময় ঠিকাদার আত্মগোপনে থাকছেন। পুরো রমজান মাসে দেখয় মিলেনি ঠিকাদারের। পূর্বদিকের এইচবিবি সংযোগ সড়কের দুপাশে পুরাতন নিম্মমানের খোয়া ও লালচে ভিজে ধূলা ব্যবহার করা হচ্ছে। এলজিইডি অফিস থেকে দু আড়াই কিলোমিটার দূরুত্ব হলেও কাজের সময় কাউকে দেখা যায় না। ঠিকাদার রশিদ ইচ্ছেমত অনিয়মের কাজ করেই চলেছেন। সংযোগ সড়ক নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন হলেও টনক নড়েনা কর্তৃপক্ষের। দোহায় একটাই সবকিছুর বাড়তি দাম ঠিকাদার কাজ করছে এটাই নাকি অনেক বড় পাওয়া। সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রীজের পূর্বদিকের সড়কের দুপাশে পুরাতন ইটের নিম্মমানের খোয়া ও ধূলা দেওয়া হয়েছে। ট্রাক থেকে পাথর নামানো হচ্ছে। সড়কে ব্লকের কাজ করা হবে। গতবারের ব্লক বিছানো আছে। সড়কের নিচ থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে দেওয়া হয়েছে সড়কের নিচে সাইডে ব্লক দেওয়ার জন্য। পাথরের ট্রাকের কারনে পশ্চিম দিকের সড়কের চরম বেহাল অবস্থা। ভয়াবহ গর্তের সৃষ্টি হয়ে মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। ওই সময় সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন গোল্লাপাড়াগ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার। তিনি জানান গত আলু মৌসুমে ব্রীজের পূর্ব দিকের মুখ থেকে ২৯৫ ফিট রাস্তায় বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছিল। কিন্তু পানি না মারার কারনে ও বালু কম ব্যবহারের জন্য এইচবিবি করনের কয়েকমাস পরেই দেবে গেছে। দেশের মেগা প্রকল্প শেষ হলেও এসড়কের কাজ শেষ হচ্ছে না। আবার পুরাতন ইটের খোয়া ধূলা ও পুরাতন ব্লক ব্যবহার করা হচ্ছে। পনের দিন কাজ করলে তিন মাস দেখা যায় না। রমজান মাসে কোন কাজ করা হয়নি। এখন ধান তুলার সময় কাজ শুরু হয়েছে। যার কারনে দূর্ভোগের শেষ নেই।
ঠিকাদার আব্দুর রশিদ জানান, পূর্বদিকের সড়কের এইচবিবি ও ব্লক দেওয়ার জন্য ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। এইচবিবি কাজ শেষ হয়েছে, এখন ব্লক বসানোর কাজ শুরু হবে। আর ব্রীজের পূর্বদিকের মুখ থেকে ২৯৫ ফিট সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ার কারনে বালু দিয়ে ভরাট করে এইচবিবি করনের জন্য ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল, সেটিও সম্পূর্ণ হয়েছে। মাত্র কয়েকমাস হলো কাজ শেষ হয়েছে এরই মধ্যে বসে যাচ্ছে কারনকি জানতে চাইলে তিনি জানান, সড়ক দিয়ে ভারি যানবহন চলার কারনে বসে গেছে। দুপাশে পুরাতন খোয়া ধূলা ব্যবহার কেন প্রশ্ন করা হলে উত্তরে বলেন কাজ করছি এটাই বড় ব্যাপার। অনেক লোকসান হয়েছে, আমি কাজ করবনা কর্তৃপক্ষের অনুরোধে করা হচ্ছে। পাথর ও ইটের ট্রাক আনার কারনে পশ্চিম দিকের সড়কে প্রচুর গর্ত তৈরি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গর্ত হয়েছে নতুন ভাবে করবে সরকারের কি টাকার অভাব আছে বলে দাম্ভিকতা দেখান তিনি। উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, সিডিউল অনুযায়ী কাজ বুঝে নেওয়া হবে। অনিয়ম হলে বিল দেওয়া হবেনা। রবিবার সরেজমিনে তদন্ত করে এমন কাজের সত্যতা পেলে পুনরায় ঠিকাদারের কাছ থেকে করে নেওয়া হবে।

 


আরোও অন্যান্য খবর
Paris