জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ৬ মাস আগে, ২ নারী গ্রেপ্তার
এফএনএস
ঢাকার আদালত চত্বর থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আনসার আল ইসলামের দুই জঙ্গি সদস্য ছিনিয়ে নেওয়া চক্রের প্রধান সমন্বয়ক ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তারা হলেন- ফাতেমা তাসনীম ওরফে শিখা (৩১) ও হুসনা আক্তার ওরফে হুসনা (২২)। শিখা পলাতক জঙ্গি আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিবের স্ত্রী আর হুসনা হলেন আশ্রয়দাতা। গতকাল শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আদালত থেকে জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ৬ মাস আগে থেকে কারাগারে গিয়ে শিখা সোহেলের সঙ্গে পালানোর যাবতীয় কৌশল রপ্ত করেন। আনসার আল ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন শিখা। জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার দিনও শিখা স্পটে ছিলেন এবং দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার পর একটি আনসার ক্যাম্পে নিয়ে যান।তিনি বলেন, আনসার আল ইসলামের সদস্যরা ৪ জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা করে। এ সময় মইনুল হাসান শামিম ওরফে সিফাত (২৪) ও মো. আবু সিদ্দিক সোহেলকে (৩৪) ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় পলাতক জঙ্গি আবু সিদ্দিক সোহেলের স্ত্রী ফাতেমা তাসনীম ওরফে শিখা, পলাতক আসামি ও হামলাকারী সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ফাতেমা তাসনীম শিখা ২০১৪ সালে এমআইএসটি থেকে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। তার ভাই মোজ্জাম্মেল হোসেন ওরফে সায়মনের মাধ্যমে সে আনসার আল ইসলামের আদর্শে দীক্ষিত হয় এবং পরবর্তীতে সায়মনের মাধ্যমে আবু সিদ্দীক সোহেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সোহেল আনসার আল ইসলামের সামরিক (আসকারি) শাখার সদস্য ছিলেন। সোহেলের সঙ্গে বিয়ের পর থেকে শিখা আরও গভীরভাবে সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৭ সালে মুক্তমনা ব্লগার অভিজিত রায়, দিপন ও নীলাদ্রি নিলয় হত্যা মামলার আসামি হিসাবে আবু সিদ্দিক সোহেল গ্রেপ্তার হয়। গ্রেপ্তারের পর থেকে বিভিন্ন আ্যনক্রিপ্টেড অ্যাপসের মাধ্যমে শিখা কারাবন্দী সোহলসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ শুরু করে। জঙ্গি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে গ্রেপ্তারকৃতরা আরও জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের শীর্ষ নেতাদের পরিকল্পনা ও নির্দেশনা মোতাবেক গত বছরের ২০ নভেম্বর আদালতের কার্যক্রম শেষে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে জঙ্গি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করা হয়। ফাতেমা তাসনীম ওরফে শিখা এ কার্যক্রমে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন। পরিচয় গোপন করে আনসার আল ইসলামের সদস্যরা জঙ্গি ছিনতাইয়ের পুরো পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও সমন্বয় করার উদ্দেশ্যে ঢাকা এবং এর পাশ্ববর্তী জেলায় একাধিক আনসার হাউস ভাড়া নেয় তারা। সেখানে আনসার আল ইসলামের শীর্ষ এবং সামরিক শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আয়মান এবং শিখাসহ অজ্ঞাতনামা সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত মিটিং করতেন। জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার প্রায় ৬ মাস আগে থেকে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করা হয়। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সিজেএম কোর্টে হাজিরা দেওয়ার সময় এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয় এবং পরিকল্পনার সমন্বয়ক হিসাবে শিখাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ঘটনার দিন সিএমএম কোর্ট এলাকায় কৌশলে তার বাবার কাছ থেকে আলাদা হয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া মশিউর রহমান ওরফে আয়মানসহ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন শিখা। এদিকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার জঙ্গি সোহেলের স্ত্রী ফাতিমা তাসনীম শিখাসহ দুজনের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামি হলেন- হুসনা আক্তার। গতকাল শনিবার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের দশদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিটিটিসি পরিদর্শক মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শেখ সাদীর তাদের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
