প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন চান সিইসি
এফএনএস : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু প্রতিহিংসা যেন না হয়। এর মধ্যেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, এটা কাম্য হতে পারে না। গতকাল রোববার দুপুর দেড়টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে চসিক নির্বাচনে নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলে। কে এম নূরুল হুদা বলেন, যারা এই নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করছেন, তাদের সহনশীল হতে হবে।
সেটা যদি অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ হয় তাহলে সহিংস ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে না। তিনি বলেন, এর মধ্যেই কয়েকজন নিরীহ মানুষের প্রাণ ঝরেছে। আমরা তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। একটি জীবন এই নির্বাচনের চাইতে অনেক মূল্যবান। কে এম নূরুল হুদা বলেন, এ অবস্থায় নির্বাচনের প্রার্থী-সমর্থকরা খুব সতর্কতার সঙ্গে নির্বাচনী কার্যাবলী পালন করবেন। আমরা এতুটুকু আশা করি প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতার মধ্যে নির্বাচন হবে।
সহিংসতার মধ্যদিয়ে নির্বাচন শেষ হবে না। নির্বাচনের প্রার্থী ও সমর্থকদের বলবÑ নির্বাচনের পরও আপনারা এই সমাজে বসবাস করবেন, কিন্তু যেন আসামি বা বাদী হিসেবে বসবাস করতে না হয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের প্রচার শুরুর পর আচরণবিধি ভঙ্গ, হামলা-হুমকিসহ গত শনিবার পর্যন্ত ৫৬টি অভিযোগ জমা হয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেছে তিনজনের। এরই মধ্যে সিইসি বলেন, চট্টগ্রামে মার্কিন নির্বাচনের চাইতেও বেশি ‘সৌহার্দ্য’ বিরাজ করছে। প্রার্থীদের হাজার সমর্থক রাস্তায় মিছিল করে। কোথাও কোনো সংঘাতের রূপ নেয় না এখানে।
নির্বাচন পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত যা আছে তা নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী। সভাশেষে সাংবাদিকরা মার্কিন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সিইসি বিষয়টিকে কথার কথা বলে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে বলেন, মার্কিনরা নির্বাচন করবে তাদের আইডোলজি অনুযায়ী, আমরা আমাদের নির্বাচন করবো আমাদের আইডোলজি অনুযায়ী। মার্কিনটা আমাদের কি দরকার, এগুলো কথার কথা। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই এবং এর প্রয়োজনীয়তাও বোধ করি না।
ইভিএমে যেখানে নির্বাচন হবে, সেখানে সশস্ত্র পুলিশ সদস্য থাকবে। ভেতরে গিয়ে একজনের ভোট আরেকজনে দেয়া ইভিএমে সম্ভব না। চসিক নির্বাচনে হত্যা মামলার আসামিরা প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা করছেন কি না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, নির্বাচনী বিধিমালায় কারা প্রার্থী হতে পারবে সে সম্পর্কে বলা আছে। তাই কারো বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেই তিনি অপরাধী নন। যদি কেউ শাস্তি পান বা কারাদণ্ড হয় তাহলে তাকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখা আমাদের দায়িত্ব।
