বাগমারায় নাগালের বাইরে ডাব ও নারিকেলের দাম
শামীম রেজা : এক দশক আগেও যে ডাবের দাম ছিল মাত্র বিশ টাকা। এখন সেই ডাব একশ টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে না। ডাব বিক্রেতারা বলছেন ডাবের এখন ভীষণ আকাল। নাটোর, রাজশাহী ঈশ্বরদী ঘুরে সত্তর থেকে আশি টাকা পিচ দরে ডাব কিনে পরিবহন খরচ ও ঘাড়তি ধরে সেই ডাব স্থানীয় বাজারে এনে নব্বই-একশ টাকা দরে বিক্রি করেও তারা লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না।
বাগমারার স্থানীয় বাজার ঘুরে ডাব চাষী, বিক্রেতা ও কৃষি বিভাগের সাথে কথা বলে জানা গেছে বিগত এক থেকে দেড় দশক আগেও ডাব নারিকেলের এত সংকট ছিল না। আবহাওয়া গত কারণ ও মোবাইল ফোনের টাওয়ারের কারণে এলাকায় বছর বছর থেকে কমতে থাকে ডাব গাছের সংখ্যা। আগে নারিকেল চারা রোপণ করে তেমন কোন পরিচর্যা ছাড়াই পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে ফল ধরা শুরু করে। এখন সেই নারিকেল চারা অনেক যত্ন করে বড় করা গেলেও সেখানে ফল ধরছে না। ফলে নারিকেল চারা রোপণে কৃষক তেমন আগ্রহ পাচ্ছে না।
কৃষক লুৎফর রহমান জানান, তার বাইশটি ডাব গাছ ছিল। এখন মরতে মরতে সাতটিতে দাঁড়িয়েছে। নতুন নারিকেল চারা রোপণ করে সেগুলোকে টিকাতে পারছেন না। তার মতে এলাকায় মোবাইল টাওয়ার আসার আগে ডাব গাছের এত করুণ পরিনতি হয়নি। একই এলাকার কৃষক আসাদুল ইসলাম জানান, শুধু মোবাইল টাওয়ার নয় আবহাওয়ার কারণেও এখন ডাব গাছের বিস্তার কমে গেছে। আগের মত এখন পুকুর দিঘীর পাড় ও রাস্তার দুই ধারে তেমন ডাব গাছ চোখে পড়ে না। ফলে ডাব-নারিকেলের দাম এখন নাগালের বাইরে চলে গেছে।
ভবানীগঞ্জ বাজারের ডাব বিক্রেতা আনিছুর রহমান জানান, তিনি চল্লিশ বছর ধরে ডাব বিক্রি করে সংসার চালান। যৌবন কালে নিজেই ডাব গাছে ওঠে ডাব নামাতেন। এখন বয়সের ভারে তা আর পারেন ন। তিনি বেপারীদের থেকে পাইকারি দরে ডাব কিনে তা সামান্য লাভে ফুটপাতে বসে বিক্রি করেন। ডাবের এত সংকট আগে কখনও হয়নি বলে তিনি মনে করেন। এ ভিন্নমত পোষন করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, শুধু মোবাইল টাওয়ারের কারণে ডাব গাছ বিলুপ্ত হচ্ছে এমন বিষয়টি পরীক্ষিত নয়। এখানে আবহাওয়ার কারণও রয়েছে। তার মতে, এখন আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে উন্নত জাতের ডাব এসেছে। থাই, ভিয়েতমানী সহ বিভিন্ন উন্নত জাতের চারা এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এসব চারার রোপণ ও যত্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে তারা সহযোগিতা করবেন।
