দেশে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ১৬ মৃত্যু, শনাক্ত ৭৮৫ জন
এফএনএস : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৩ ও নারী ৩ জন। সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ হাজার ৭৩৪ জনে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮১টি ল্যাবরেটরিতে ১৪ হাজার ৬৮টি নমুনা সংগ্রহ ও ১৩হাজার ৬৮১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ৩৩ লাখ ৩১ হাজার ৪৯১টি।
এ সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্ত হন আরও ৭৮৫ জন। দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ২০ হাজার ৬৯০ জন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় মোট সুস্থ হন ৮৩৩ জন। এতে মোট সুস্থ হন ৪ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ জন। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৫.৬৩ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯.০৩৬ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১.৪৯ শতাংশ। চলতি বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় ও ১৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু হয়।
৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট মৃত্যু ৭ হাজার ৭৩৪ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৮৮০ (৭৬.০৩ শতাংশ) ও নারী ১ হাজার ৮৫৪ জন (২৩.০৯৭ শতাংশ)। মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১৬ জনের মধ্যে শূন্য থেকে দশোর্ধ্ব একজন, চল্লিশোর্ধ্ব একজন এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ১৪ জন রয়েছেন। বিভাগীয় হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১৬ জনের মধ্যে ঢাকায় ১২ জন, চট্টগ্রামে দুইজন, খুলনায় একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের একজন রয়েছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। আশা করা যাচ্ছে শিগগিরই করোনা সংক্রমণের হার বিপৎসীমার (৫ শতাংশ) নিচে নেমে আসবে। তবে সারা বিশ্ব থেকে করোনা মহামারি দূর না হওয়া পর্যন্ত সংক্রমণ যেকোনো সময় বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
গতকাল শুক্রবার করোনা সংক্রমণের হার কমার বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা এ আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই করোনা সংক্রমণের হার কমে গিয়ে আবার বেড়েছে। বাংলাদেশেও এমনটা হতে পারে। তাই আমাদের করোনা ভাইরাস বিষয়ে অসতর্ক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, বরং আমাদের আরও বেশি সচেতন এবং সতর্কতার উপর জোর দেওয়া উচিত। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বর্তমান উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন এ বিষয়ে বলেন, আমরা আশা করতে পারি শিগগিরই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিপৎসীমার নিচে চলে আসবে।
তবে আবারও বেড়ে যেতে পারে। পৃথিবীর অন্য দেশেও এটা হয়েছে। যখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমে যায়, তখন মানুষ অসতর্ক হয়ে যায়, ফলে সংক্রমণ পুনরায় বেড়ে যায়। আমরা এমনিতেই অসতর্ক, তাই দেশে সংক্রমণ আবার বেড়ে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, ভিয়েতনাম, নিউজিল্যান্ড, জাপান, অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম দিকে সংক্রমণ কমে গিয়েছিল, জাপানে সংক্রমণ ছিলই না, কিন্তু এখন জাপানে সংক্রমণ বেড়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত পৃথিবী থেকে করোনা ভাইরাস পুরোপুরি বিদায় না হবে, ততদিন সংক্রমণের আশঙ্কা থাকবেই।
করোনা দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে তিনি বলেন, বেশি বেশি পরীক্ষা করতে হবে। যারা শনাক্ত হবে, তাদের আইসোলেটেড করতে হবে। তাদের সঙ্গে থাকা লোকদের রাখতে হবে কোয়ারেন্টিনে। মহামারি বিদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সবাইকে অবশ্যই করোনার স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। না হলে অন্য দেশের মতো আমাদের দেশেও আবার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে।
