২৬ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi
শিরোনাম
ফুটপাত দখলমুক্তর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পুর্নবাসনের উদ্যোগ রাসিকেরভূমিমন্ত্রী মিনুকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি২৬ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা, বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষকদের পাকাধান কাটার জরুরি আহ্বানচাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ছাড়াই মামলা নেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে : আইজিপিবাংলার জাতীয় খেলা হা-ডুডুকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা হবে : এমপি মিলনপ্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে স্বাক্ষরিত হতে পারে কয়েকটি সমঝোতা স্মারকপ্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে স্বাক্ষরিত হতে পারে কয়েকটি সমঝোতা স্মারকলোকসান-সঙ্কটের অজুহাতে বেসরকারি ব্যবস্থায় দেয়া হচ্ছে আরো অর্ধডজন ট্রেন

কুয়েটে শিক্ষকের মৃত্যু ছাত্রলীগের ৪ নেতা আজীবন বহিষ্কার

প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারি ২০২২, ৫:২০ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: শিক্ষানগর
কুয়েটে শিক্ষকের মৃত্যু ছাত্রলীগের ৪ নেতা আজীবন বহিষ্কার
বিজ্ঞাপন

এফএনএস : খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ চার শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কার অন্য তিনজন হলেন, আবু হাসান আবদুল কাইয়ূম, মো. কামরুজ্জামান রাজ্জাক ও রিয়াজ খান নিলয়। ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির মুলতবী সভার পর গতকাল বুধবার কুয়েট সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া ৭ জনকে বিভিন্ন সাজা দেওয়া হয়েছে।

কুয়েট শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ ৪৪ শিক্ষার্থীর শোকজের জবাব এবং ৪৪ পৃষ্ঠার তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সভায় প্রদান করা হয়। কমিটির সভাপতি ও কুয়েট উপাচার্য প্রফেসর ড. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) প্রফেসার ড. মো. ইসমাইল সাইফুল্লাহ ও পাবলিক রিলেশন অফিসার মো. রবিউল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় পুনরায় সভা শুরু হয়।

পরবর্তীতে বেলা ১১টায় জরুরি সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বছরের ৩০ নভেম্বর বিকেলে কুয়েটের ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেন মারা যান। তার মৃত্যুর পর সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে এই মৃত্যুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ তার অনুগত ছাত্ররা দায়ী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের লালনশাহ হলের ডিসেম্বর মাসের খাদ্য ব্যবস্থাপক (ডাইনিং ম্যানেজার) নির্বাচন নিয়ে ড. সেলিমকে চাপ দিয়ে আসছিলেন ফজলুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান।

এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বাধীন কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের রাস্তায় ড. সেলিমকে জেরা শুরু করেন। পরে তারা শিক্ষককে অনুসরণ করে তার ব্যক্তিগত কক্ষে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধা ঘণ্টা শিক্ষকের রুমে অবস্থান করেন। পরে কক্ষ থেকে বেরিয়ে ড. সেলিম দুপুরের খাবার খেতে ক্যাম্পাস থেকে নিজ বাসায় যান। দুপুর আড়াইটার দিকে তার স্ত্রী লক্ষ্য করেন তিনি বাথরুম থেকে বের হচ্ছেন না। দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযোগ ওঠে, দাফতরিক কক্ষে কুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বে কতিপয় ছাত্রের জেরা, অপমান, অবরুদ্ধ করে রাখা ও মানসিক নির্যাতনে ড. সেলিমের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে দুই দফায় কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অপরদিকে ড. সেলিমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিসহ পাঁচ দফা দাবিতে গত ২ ডিসেম্বর দুপুরে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে শিক্ষক সমিতি। প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ দায়ী ছাত্রদের শাস্তির দাবি জানান শিক্ষকরা।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন