এফএনএস : জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সারা পৃথিবীতেই ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। কার্বন নিঃসরণের জন্য ধনী দেশগুলো বেশি দায়ী হলেও, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অনুন্নত দেশগুলো। বিশ্বব্যাংক বলছে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দশ বছরের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১৩ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে চলে আসবে। বেশ কয়েক বছর ধরেই বিশ্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বেড়েছে আশংকাজনক হারে। বলা হচ্ছে, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ব্যাপক শিল্পায়নের কারণেই এমনটা ঘটছে। ঝড় বন্যা দাবানল ও ভূমিকম্পের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যেন প্রতিশোধ নিচ্ছে ধরিত্রী।
গবেষণা বলছে, ধনী দেশগুলো বিশ্বের ৮৬ শতাংশ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী। অন্যদিকে, মাত্র ১৪ শতাংশ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী হয়েও গরীব দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ভুগছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে। বলা হচ্ছে, সামনের দিনগুলোতে যেখানে ধনী দেশগুলোর দুই প্রজন্মের শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের মুখোমুখি হবে। সেখানে গরীব দেশগুলোর কয়েক প্রজন্মেও শেষ হবে না পরিবেশ সংকট। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনুন্নত দেশগুলোতে বাড়বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা। তাতে পাল্লা দিয়ে বাড়বে জলবায়ু শরণার্থীর পরিমাণও।
গরীব দেশগুলোর শহরাঞ্চলে বেশি পরিমাণে অ্যাসফল্ট কংক্রিটের রাস্তা তৈরি এবং ব্যাপক আকারে বৃক্ষনিধনের কারণে বাড়ছে উষ্ণতা। সিয়েরা লিওনের ফ্রিটাউন মেয়র ইভোনি আকি সয়্যার বলেন, গাছ আমাদের জীবনে কত গুরুত্বপূর্ণ তা বলে বোঝানো যাবে না। গোটা বাস্তুতন্ত্রকে স্বাভাবিক রাখে গাছ। জলবায়ু পরিবর্তন মানে হচ্ছে, সময়মতো প্রকৃতিতে কিছুই হবে না। আরো বেশি মানুষ বাধ্য হয়ে শহরমুখী হবে। যেটা হবে সব দিক দিয়ে খারাপ।
মেয়র ইভোনি যেরকম তার শহরে দশ লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করেছেন, এরকম কর্মসূচিই হয়তো পৃথিবীকে আবারো সুস্থ করে তুলতে পারে। যা ঠেকাবে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাসের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বিশ্বব্যাংক জানাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে আগামী দশ বছরের অন্তত ১৩ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে। জলবায়ু পরিবর্তন সংকট তাই এখন আর কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব নয়, পুরোপুরিই বাস্তব।