স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হ্রাসে চলমান লকডাউনের বিধিনিষেধে গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে শিথিলতা। আর সেই শিথিলতাই রাজশাহী নগরীর অধিকাংশ সড়কেই দেখাগেছে যানবাহনের উপচেপড়া ভিড়। সকাল থেকে রাত্রি অবদি নগরীর বিভিন্ন সড়কে দেখাগেছে অসংখ্য গাড়ি। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষেরও ছিল ঢল নগরীজুড়ে। গাড়ি আর মানুষের জটলাতে নগরীর রাস্তা পারাপারেও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে পথচারিদের। নগরীতে মানুষের আনাগোনা ও যানবাহনের চলাচল বৃদ্ধি পেলেও খুব একটা লক্ষ্য করা যায়নি স্বাস্থ্যবিধি মান্যতার বিষয়টি। ভ্যাকসিনকে ঢাল করে অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মান্যতার বিষয়টিকে ‘ডোন্ট কেয়ার’ ভেবে করছেন চলাফেরা।
গতকাল নগরীর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখাগেছে দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও রাজশাহী থেকে অসংখ্য যাত্রী এসেছেন বিভিন্ন ট্রেন করে। রেলওয়ে প্লাটফর্ম ছাড়াও টিকেট কাউন্টারেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। এছাড়াও বিভিন্ন জেলাভিত্তিক ও ঢাকাবাস কাউন্টারগুলোতেও চোঁখে পড়ে অসংখ্য যাত্রী। স্বাস্থ্যবিধির মান্যতার বিষয়টি উপেক্ষিত রেখেই ‘কে কার আগে টিকিট নেবে সেই তোড়জোড়ই ছিল বেশি।’ নগরীর রেলগেটস্থ কামারুজ্জামান চত্বরের বিভিন্ন দিক থেকে আসা অসংখ্য গাড়ীর কারণে দিনের অধিকাংশ সময়ই রাস্তাটি ছিল জ্যামে পরিপূর্ণ।
অর্ধেক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মান্য সাপেক্ষে চলাচলের কথা থাকলেও অধিকাংশ আন্তঃজেলা বাসগুলো সেই নিয়ম না মেনে ব্যর্তয় ঘটিয়েছে নিয়মনীতিকে বলেও অভিযোগ আছে যাত্রী সাধারণের পক্ষ থেকে। নগরীর সাহেব বাজারসহ অন্যান্য ব্যবসাকেন্দ্রেও লক্ষ্য করা গেছে অসংখ্য ক্রেতার আনাগোনা। কারো মুখে ছিল মাস্ক; আবার কেউবা মাস্কবিহীনই এসেছেন বাজার সদায় করতে। আন্তঃজেলার বাসগুলোতে কর্মরত হেলপার ও সুপারভাইজারদের মুখেও খুব একটা দেখা মেলেনি মাস্ক পড়ার প্রবণতা। সবাই যেনো ডোন্ট কেয়ার ভাবেই চলাচল করছে বলেও মন্তব্য নগরীর সচেতন নাগরিকদের। আর এই ডোন্ট কেয়ারে কারণ হিসেবে মাস্কবিহীন পথচারিরা বলছেন, ‘ভ্যাকসিন নেয়ার কথা’। তাদের ভাষ্যমতে, করোনভাইরাসের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন শরীরে নিয়েছি, তাই মাস্ক পড়ে আর কি হবে!’
শরীরে ভ্যাকসিন নেবার ফলে অসচেতন অনেকেই উপরোক্ত ভাষ্যমতে করছেন দেড়াছে চলাফেলা। তাদের মতে, ভ্যাকসিন নেয়াতে শরীরে আর করোনাভাইরাস প্রবেশ করতে পারবেনা। কিন্তু এই ধরনের কথাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তাঁরা বলছেন, ভ্যাকসিন নিলেই যে করোনাভাইরাসে কোন মানুষ আক্রান্ত হবেনা বিষয়টি সম্পূর্ণ মূর্খতা। তবে এটা সত্য যে, ভ্যাকসিনের দুই ডোজ নেবার পর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যু ও ফুঁসফুঁসের ঝুঁকি কমে অনেকটাই। ভ্যাকসিন নেবার পড়েও মুখে মাস্ক ও স্বাস্থ্যবিধি মান্য সাপেক্ষে দৈনন্দিন জীবনের কাজ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।