এফএনএস : সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোলে ইউনিয়নে বিষাক্ত মদপানে পিন্টু শেখ (৪০) নামে অসুস্থ আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়ালো। এ ঘটনায় রেকটিফাইড স্পিরিটসহ সনজিত কুমার ভৌমিক নামে এক মদ বিক্রেতাকে আটক করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নেওয়ার পথে পিন্টুর মৃত্যু হয়। বিষাক্ত মদপানের ঘটনায় ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিয়ালকোল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য বাবু শেষ ও হযরত আলী। মাদপানে মৃত পিন্টু বহুলী ইউনিয়নের ইউনিয়নের বিলধলি পুকুরচালা এলাকার মৃত ঘুইয়া শেখের ছেলে।
এর আগে রোববার রাতে বিষাক্ত মদ পান করে অসুস্থ হয়ে তিন জনের মৃত্যু হয়। এরা হলেন- শিয়ালকোল ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে আবদুল ওয়াহাব (৩২), সিকিম আলীর ছেলে মো. আবদুল (৪৫) ও বহুলী ইউনিয়নের সড়াইচণ্ডী নতুনপাড়া গ্রামের কালু শেখের ছেলে তাহের সেখ (৪৮)। সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, গত ৭ আগস্ট রাতে কামারখন্দের কাকলী হোমিওপ্যাথিক দোকানদার সনজিত কুমার ভৌমিকের কাছ থেকে বিষাক্ত মদ (রেকটিফাইড স্পিরিট) কিনে আনেন ওই ছয় জন। শিয়ালকোল ইউনিয়নের শ্যামপুর শ্মশানের কাছে কালিমন্দিরের পাশে বসে ওই রাতেই মদপান করেন।
মদপানের পর সেদিন কিছু না হলেও রোববার রাতে বিষক্রিয়া শুরু হওয়ায় ছয় জনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে রোববার দিবাগত রাতে দু’জন ও গত সোমবার সকালে আরও একজনের মৃত্যু হয়। এদিকে গত সোমবার পুলিশকে না জানিয়ে ওয়াহাব ও আব্দুলকে দাফন করে স্বজনরা। বিষয়টি জানার পর সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে দাফনের পূর্বমূহুর্তে আবু তাহের নামে একজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
আর অসুস্থ অন্য তিন জনের মধ্যে পিন্টুকে রাতে বগুড়ায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, মদপানে অসুস্থ একজনের তথ্যের ভিত্তিতে কামারখন্দ বাজারের কাকলী হোমিওপ্যাথিক দোকানে অভিযানে চালিয়ে স্পিরিট বিক্রেতা সনজিত কুমার ভৌমিককে আটক করা হয় এবং তার দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ রেকটিফাইড স্পিরিট জব্দ করা হয়েছে।