আবুল কালাম আজাদ (সনি) : ভরা মৌসুমে আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষক। অন্যদিকে চারঘাটের বাজারগুলোতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চড়া দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে আমনের ভরা মৌসুমে সার কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হচ্ছে কৃষকদের। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে কৃষকদের মধ্যে। জানা গেছে, উপজেলায় তালিকাভুক্ত ৭ টি সারের ডিলার রয়েছে।
আমন ধান চাষের ভরা মৌসুমে সরকারের বেঁধে দেওয়া প্রতি বস্তা ডিএপি সার আটশত টাকা দরে বিক্রয় করার কথা থাকলেও সার সংকটের কারণ (বরাদ্দ নেই) দেখিয়ে চড়া দামে ডিএপি সার বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ইউরিয়া সার ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকার স্থলে ৯০০ টাকা। এমন অবস্থা চলতে থাকলে এবার আমন ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
এ ব্যাপারে কথা বললে পরিবেশকরা বলেছেন, বরাদ্দ সংকটের কারণে ২/১টি সার ছাড়া সারের দাম স্থিতিশীল আছে। ঢালাওভাবে দাম বেশি নিলে খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছে চড়া দামে সার বিক্রি করছেন বলে তারা মনে করেন। অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবশেকরা দাম বেশি নেওয়ায় চড়া দামে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করতে হচ্ছে। এদিকে ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সারের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ কৃষকেরা হয়ে পড়েছেন দিশাহারা।
সাধারণ কৃষকদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সার মজুদ করে এখন সংকট দেখিয়ে অধিক মুনাফা লাভের জন্য চড়া দামে নয়শ থেকে হাজার টাকায় ডিএপি সার বিক্রি করছে। স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের বেঁধে দেওয়া ডিএপি সারের মূল্য আটশ টাকা ঘোষণা করা হলেও আমাদের নয়শ থেকে হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে। এমনিতেই অনাবৃষ্টিতে সেচ দিয়ে ধানের চারা রোপণ করতে হচ্ছে। তার সাথে অতিরিক্ত সারের দাম। এভাবে চলতে থাকলে আমন আবাদ ব্যাহত হবে। ’
চারঘাট সদরের সারের ডিলার আব্দুর রাকিব বলেন, ‘যেখানে আমরা ৭০০০ কেজি সার বরাদ্দ পেয়ে থাকি, সেখানে গত মাসে মাত্র ৩০০ কেজি সার বরাদ্দ পেয়েছি। যা এক সপ্তাহে শেষ হয়ে গেছে। বরাদ্দ কমের কারনেই সার সংকট, তবে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে না।’ এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মদ বলেন, ‘চারঘাটে সারের কোন সংকট নেই। উপজেলায় যতটুকু সার প্রয়োজন ততটুকুই বরাদ্দ আছে। আমরা প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করছি। কোনো ব্যবসায়ী কৃষকদের থেকে বেশি মূল্যে সার বিক্রি করলে আমরা অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’