এফএনএস : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত বিধিনিষেধ (লকডাউন) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে বেলা সোয়া ১১টায় মন্ত্রিপরিষদের সভাকক্ষে আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়। এতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব আনোয়ারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও ভার্চুয়ালি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা যুক্ত ছিলেন।
পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জানান, ১০ তারিখ পর্যন্ত বিধিনিষেধ বেড়েছে। সবাইকে ভ্যাকসিনেটেড হতে হবে সেই শর্ত আরোপ করা হয়েছে। অফিস আদালত-দোকানপাট ১১ তারিখ থেকে খুলবে। মন্ত্রী বলেন, এই কয়দিন বাস্তবতা লক্ষ্য করব। টেস্ট কেইস হিসেবে দুই-চারদিন দেখব। প্রয়োজন হলে জরুরি ভিত্তিতে বসে সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, অর্থনীতি সচল রাখাও দায়িত্ব। সেজন্য কিছু শিল্প-কারখানা খোলা হয়েছে। যানবাহন সব চলবে না। রোটেশন অনুযায়ী চলবে। ১০০ গাড়ি থাকলে শ্রমিক নেতারা ঠিক করবে, অল্পসংখ্যক চলবে। সীমিত আকারে গাড়ি চলবে।
রেল ১০টার জায়গায় হয়তো ৫টা চলবে। মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, আগামী ১ সপ্তাহে ১ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিনেটেড করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওয়ার্ড-ইউনিয়নে ৫ থেকে ৭টা কেন্দ্র করে ১ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। মানুষকে ভ্যাকসিন নিতে দৌড়াতে হবে না, আমাদের লোকজনই তাদের কাছে পৌঁছে যাবে। ১৪ হাজার কেন্দ্রে একযোগে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। সেখানে আমরা বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেবো, কারণ বৃদ্ধ লোককদের মৃতুঝুঁকি বেশি বলে মনে হয়েছে।
একইসঙ্গে শ্রমিক, বাসের হেলাপারসহ সবাইকে ভ্যাকসকসিন নিতে আহ্বান জানাচ্ছি। ভ্যাকসকসিন ছাড়া কেউ কর্মস্থলে আসতে পারবে না। ভ্যাকসিনের সার্টিফিকেট থাকতে হবে। ভ্যাকসিন দিলেই ওয়েবসাইটে চলে যাবে। সেগুলো চেক করা হবে। ভ্যাকসিন দেয়ার পর সাথে সাথে ওয়েবসাইটে য়িয়ে দেবো। ভ্যাকসকসিন নিয়েছে কিনা যাচাই করতে পারবরব। ৭, ৮, ৯ তারিখ সুযোগ রাখলাম। যাতে তারা ভ্যাকসিন নিয়ে ব্যবসা কেন্দ্র খুলতে পারে। সময় বাড়াচ্ছি তা, ১০ তারিখ পর্যন্ত সুযোগ দিচ্ছি। ১১ তারিখ থেকে যাতে খুলতে পারে সেই সুযোগ রেখেছি।
মন্ত্রী বলেন, ১১ তারিখের পর ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ ভ্যাকসিন ছাড়া মুভমেন্ট করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। ১১ তারিখের পর কেউ যদি রাস্তা মোটসাইকেল, বাইসাইকেল, বাস, ট্রেনে চলাচল করতে পারবে না। তাদের অবশ্যই ভ্যাকসিনেটেড হতে হবে। অন্যথায় নো বডি অ্যালাউড টু মুভ। আমরা তো সবার কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছে দিচ্ছি, গ্রামে গ্রামে ভ্যাকসিন পৌঁছে দিচ্ছি। বলার সুযোগ নেই ভ্যাকসিন পাইনি, ১৪ হাজারে কেন্দ্রে দেয়া হচ্ছে।
এদিকে মাস্ক পরতে উদ্বুদ্ধ করার সকল প্রচেষ্টা শেষে এবার গ্রামে গ্রামে কমিটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কঠোর বিধিনিষেধের বিষয়ে সচিবালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক গ্রামে গ্রামে কমিটি করার বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক পরতে চান না। এটা নিশ্চিত করতে এলাকায় এলাকায় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে কমিটি করা হবে।
তারা মাস্ক পরতে উদ্বুদ্ধ সবাইকে করবেন, মাস্কের প্রয়োজনীয়তা বুঝাবেন। মন্ত্রী বলেন, সবকিছু আইন করে নিশ্চিত হবে না, কিছু বিষয়ে মোটিভেশন দরকার। এইজন্য কমিটির কথা ভাবা হয়েছে। এর আগে গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ দেয় সরকার। সেই বিধিনিষেধের মেয়াদ ৫ আগস্ট রাত ১২টায় শেষ হবে। বিধিনিষেধে সব ধরনের গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ আছে।
খাদ্যপণ্য উৎপাদন-প্রক্রিয়াকরণ, চামড়া পরিবহন-সংরক্ষণ ও ওষুধ খাত ছাড়া বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিল্প-কারখানা। তবে ১ আগস্ট থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দিয়েছে সরকার। বন্ধ রয়েছে দোকানপাট ও শপিংমল। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষের বাইরে বের হওয়াও নিষেধ। কিন্তু এর মধ্যেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি। বরং দিন দিন অবনতি হচ্ছে পরিস্থিতির।