তানোর প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য বিভিন্ন এনজিও কর্মীরা কিস্তি আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ এনজিও কর্মী সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। এমনকি মামলা-মোকর্দ্দমা ও পুলিশে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে এনজিও কর্মীর। স্থানীয়রা জানান, এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ। ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে, কেউ কিস্তি দিতে ব্যর্থ হয়ে এলাকা ছেড়েছে।
উপজেলার সদরে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে তাদের ব্যবসা করে আসছে, এছাড়াও অনেকে এনজিও থেকে সাপ্তাহিক কিস্তিতে ঋণ নিয়ে ইজিবাইক, ভ্যান, বিভিন্ন যানবাহন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করে আসছে। করো’নার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজশাহীতে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তানোর উপজেলাতেও লকডাউন কার্যকর করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এনজিওর ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন আয়ের ঋণগ্রহীতারা। অধিকাংশ এনজিও বিবাহিত নারীদের সমিতির মাধ্যমে ঋণ দিয়ে থাকে। এমন সময়ে এ সকল ভুক্তভুগি খেটে খাওয়া ঋণ গ্রহীতা যখন তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে তখন কিস্তি আদায় তাদের কাছে গোদের ওপর বিঁষফোড়া হয়ে দেখা দিয়েছে।
এদিকে ৩১ আগস্ট শনিবার গোল্লাপাড়া বাজারে দেখা যায়, এনজিও উদ্দীপন তানোর (আমশো) শাখার শাখা ব্যবস্হাপক ও মাঠকর্মী এক হোটেল ব্যবসায়ীকে নানা ভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, এমনকি পরের দিন কিস্তি না দিলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখানো হয়েছে। একই দিন এনজিও আশা তানোর সদর শাখার শাখা ব্যবস্থাপক ও মাঠকর্মী এক মুদি দোকানীর ওপর চড়াও হয়ে কিস্তি পরিশোধের জন্য আশ্লীল ভাষায় গালাগালী করছে।
এ সময় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তাদের কাছে কিস্তি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো কথা না কৌশলে স্থান ত্যাগ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোল্লাপাড়া গ্রামের কয়েক জন ভুক্তভোগী নারী বলেন, এখন উপজেলায় কঠোর লকডাউন চলছে। গ্রামের লোকজন কাজ করতে পারছে না। কাজ না থাকায় সংসার চালানো নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কিস্তির চাপ দেওয়ায় এখন তাদের অসহায় মনে হচ্ছে। কুঠিপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী নারী বলেন, তার ছেলে ট্রলিতে কাজ করে। লকডাউনে উপজেলায় ট্রলি চলতে দিচ্ছে না। ফলে আয় বন্ধ হয়ে গেছে। এখন পেট চালাব না কিস্তি চালাবো কিছু বুঝে উঠতে পারছি না। এবিষয়ে জানতে চাইলে উদ্দীপন ও আশার দায়িত্বশীল কেউ কোনো বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।