স্টাফ রিপোর্টার : করোনার প্রাদুর্ভাবে জর্জরিত দেশ। জরুরী কাজ ব্যতীত জনসাধারণের বাইরে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নিয়ম মাফিক সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ চলছে তার নিজের গতিতেই। ঠিক সেই গতিধারাই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আওতাধিন বিভিন্নস্থানে চলমান রয়েছে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ।
উক্ত উন্নয়নমূলক কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য রাসিক কর্তৃক ব্যবস্থা করা হয়েছে এক ধরণের বিশেষ বাহনের। আর সেই বাহনে চড়েই কাজ শেষে শ্রমিকেরা যাচ্ছেন যার যার গন্তব্যস্থানে। উক্ত বাহনটি একদিকে যেমন পরিবেশ বান্ধন নয়; ঠিক অন্যদিকে, অতিরিক্ত যাত্রীবহনে প্রধান সড়কে চলমান বাহনটি যেনো মৃত্যুর ঝুঁকির সমতুল্য বলে মন্তব্য প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিক সাধারণের।
স্যালোমেশিনের ইঞ্জিনের দ্বারা চলমান তিন চাকার হালকা বাহনটিতে সর্বোচ্চ ছয় থেকে সাতজন ধারণ ক্ষমতা থাকলেও করোনাকালীন সময়ে যানবাহনের অপ্রতুলতা আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় হালকা ভটভটির যাত্রীবহনের চিত্রটি দেখলে ভয় আর ভীতিতে যেনো শরীরের লোমগুলো দাঁড়িয়ে যায়। সামান্য একটু অসতর্কতায় কিংবা অন্যকোন বাহনের সামান্য একটু ধাক্কায় ঘটতে পারে বড় কোন দূর্ঘটনা বলে মন্তব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের।
গতকাল শনিবার নগরীর বিমানবন্দর সড়কে এমনই একটি চিত্র ধরা পরে পত্রিকার প্রতিবেদকের মোবাইল ফোনে। নওদাপাড়াস্ত বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে স্যালোমেশিনের ইঞ্জিন দ্বারা পরিচালিত তিন চাকার হালকা ভটভটি বাহনটিতে প্রায় বিশজনের বেশি শ্রমিক নিয়ে চলতে দেখা গেছে। ভেতরে বসাছিল দশ থেকে বারোজন। আর ছোট্ট সেই বাহনের ছাদে বসাছিল প্রায় দশজনের বেশি শ্রমিক। গাড়িটি অন্য দুইজন শ্রমিকের জন্য রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়েছিল কিছুক্ষণ।
সেই ছবি তুলতে গেলে বাহনে বসে থাকা শ্রমিকের অনেকেই উচ্চস্বরে বলতে থাকে, ‘ভাই ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে দিয়েন; আমাদের জীবনের মায়া কেউ করেনা। ভাল ও নিরাপদ একটি বাহন দিলে আমরা কাজ শেষে নিজেদের গন্তব্যস্থানে যেতে পারতাম ঝুঁকি ছাড়াই। কিন্তু, আমাদেরকে এই ঝুঁকিপূর্ণ বাহনে বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে শহরের বাইরের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে।’ কথাগুলো বলতে বলতেই গাড়ি সামনের দিকে ধাবিত হতে থাকে।
গাড়িতে বসে থাকা পুরুষ শ্রমিকেরা কিছুটা ভীতিহীন থাকলেও মহিলা শ্রমিকদের চোখেমুখে ছিল ভয় আর ভীতিরি প্রতিচ্ছবি। গাড়ীগুলো সাধারণত ব্যবহৃত হয় গ্রাম থেকে হাটবাজারে সবজি কিংবা দু-তিনটা ছোট ছোট গরু বহনের জন্য। অনিয়ন্ত্রিত বাহন বলে সেটি শহরের কোন রাস্তাতে চলাচলের উপয়োগী নয়।
অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় ট্রাফিক আইনেও উক্ত বাহনটির শহরে প্রবেশের ক্ষেত্রে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা বলে জানান ট্রাফিকের এক সার্জেন্ট। যেখানে ট্রাফিক আইনে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের জীবনকে মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়ে পরিবহন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন নিশ্চিন্তে?