এফএনএস : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। এই বিধিনিষেধ চলবে আগামী ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত। বিধিনিষেধে সব ধরণের গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ আছে। খাদ্যপণ্য উৎপাদন-প্রক্রিয়াকরণ, চামড়া পরিবহন-সংরক্ষণ ও ওষুধ খাত ছাড়া বন্ধ রয়েছে সব ধরণের শিল্প-কারখানা। তবে পোশাক কারখানা সব ধরনের শিল্প-কারখানা খুলে দিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান মালিকরা। গত ২৯ জুলাই সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা এ দাবি জানান।
এরপরই গত শুক্রবার রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে রপ্তানিমুখী সব শিল্প ও কলকারখানা আরোপিত বিধিনিষেধের আওতা বহির্ভূত রাখা হলো। সে হিসেবে আজ রোববার থেকে খুলছে গার্মেন্টসসহ রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা। তাই এসব শিল্পকারখানা খোলার খবরে কাজে যোগ দিতে গতকাল শনিবার সকাল ঢাকায় ফিরতে শুরু করেন শ্রমিকরা। ভোগান্তি সঙ্গী করে কর্মস্থলে ফেরাদের অধিকাংশই পোশাকশ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্য।
গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কয়েকগুণ ভাড়া দিয়ে ফিরছিলেন তারা। গতকাল শনিবার ঢাকার প্রবেশপথ আমিন বাজার ও গাবতলীতে ঢাকায় ফেরা মানুষের চাপ দেখা গেছে। করোনা প্রতিরোধে সরকারঘোষিত বিধিনিষেধ অমান্য করেই চাকরি বাঁচাতে কর্মস্থলে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন তারা। সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তরবঙ্গ ও ঢাকার আশপাশের জেলা থেকে যারা আসছেন তারা মূলত ভেঙে ভেঙে রিকশা ও ভ্যানে চড়ে আসছেন। এতে তাদের তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে।
মাগুরা থেকে ফেরা গার্মেন্টসকর্মী রবিউল বলেন, মাগুরা সদর থেকে মাইক্রোবাসে আসলাম, দেড় হাজার টাকা ভাড়া নিয়েছে। কাল থেকে গার্মেন্টস খোলা, তাই আজকে (গতকাল শনিবার) তাড়াহুড়ো করে তিনগুণেরও বেশি ভাড়া দিয়ে আসতে হলো। মিরপুর-২ নম্বরের একটি পোশাক কারখানার ওয়াশ শাখায় কর্মরত রবিউল বলেন, ভেবেছিলাম ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি থাকবে। এজন্য একটু দেরি করে ফিরতে চেয়েছিলাম। কাল থেকে কারখানা খোলা, তাই বাধ্য হয়েই আজকে আসতে হলো। টাঙ্গাইলের ভাদ্রাবাজার থেকে আসা প্রিন্টিং প্রেসের কর্মচারী ফয়সাল আহমেদ বলেন, গণপরিবহন নাই।
আমাদের তো কষ্ট হচ্ছেই। কিন্তু চাকরি বাঁচাতে এখন এটা মেনে নিতে হবে। তিনি বলেন, ছুটি ছিল ২ আগস্ট পর্যন্ত কিন্তু মালিক আজকে দেখা করতে বলেছেন। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় ফিরতে ৬০০ টাকা খরচ হয়েছে। আমিন বাজার থেকে ফকিরাপুল এখন আরও ৬০০ টাকা চাচ্ছে। গাবতলী চেকপোস্টে থাকা ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল শনিবার অন্যদিনের তুলনায় ঢাকায় ফেরার চাপ বেশি ছিল। যারা যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারছে না, তাদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনের ধারায় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন।
তবে যারা হেটে চেকপোস্ট পার হচ্ছেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে না। অন্যদিকে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। মিরপুর দারুসসালাম জোনের সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক) ইত্তেখায়রুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই প্রচুর মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। গার্মেন্টসহ অন্য কলকারখানা খুলছে, এ কারণে আজ চাপ বেশি। তিনি বলেন, চাকরিতে যোগ দিতেই তারা শত দুর্ভোগ পেরিয়ে ঢাকায় ফিরছেন। পুলিশ তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করছে।