স্টাফ রিপোর্টার : করোনা সনদ প্রতারণা চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। নগরীর বোয়ালিয়া থানা এলাকার হেতেমখা ওয়াবদা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন, ওই চক্রের মূলহোতা তারেক আহসান (৪১) এবং তার দুই সহযোগী রফিকুল ইসলাম (৪২) ও মোসা. সামসুন্নাহার শিখা (৩৮)। রফিক ও শিখা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী মহানগর ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার আরেফিন জুয়েল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ টিম নগরীর হেতেমখা ওয়াবদা এলাকা থেকে জাল করোনা সার্টিফিকেট প্রতারণা চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। কারা ও কীভাবে এই প্রতারণা করতেন জানতে চাইলে আরেফিন জুয়েল বলেন, মূলত সিভিল সার্জন অফিসকে কেন্দ্র করে এই প্রতারণা চক্রটি গড়ে ওঠে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, যেসব বিদেশগামী করোনা টেস্টের জন্য স্যাম্পল দিয়েছেন তাদের অনেক সময় ৪৮-৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্টের প্রয়োজন হয়।
তখন ওই প্রতারক চক্রটি তাদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানায় যে, আপনার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আপনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাহলে আপনার রিপোর্ট নেগেটিভ করার ব্যবস্থা করা হবে। এভাবে প্রতারক চক্রের সদস্যরা ভুক্তভোগীদের ডেকে ৩ থেকে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট সরবরাহ করত। ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রকৃতপক্ষে তাদের করোনা সার্টিফিকেট নেগেটিভই থাকে।
বিদেশগামীসহ অন্যান্যরা দ্রুত সময়ে করোনা রিপোর্ট পাওয়ার জন্য টাকা ওই চক্রের হাতে তুলে দিত। এই ঘটনায় রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিসের কেউ জড়িত আছেন কি-না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত এখনো চলছে। গতকাল ও আজ (গত বুধ ও গতকাল বৃহস্পতিবার) সকালে আসামিদের আটক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আবারও গণমাধ্যমকে জানানো হবে। এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান ডিবির এই কর্মকর্তা।