১২ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

রাজশাহীতে করোনা উপসর্গে মৃতরা থাকছেন হিসাবের বাইরে?

প্রকাশিত: ২ জুলাই ২০২১, ১:২০ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: lead
রাজশাহীতে করোনা উপসর্গে মৃতরা থাকছেন হিসাবের বাইরে?
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৯ জুন একদিনে সর্বোচ্চ ২৫ জনের মৃত্যুতে রেকর্ড হয়। যাদের মধ্যে ১২ জনই ছিল রাজশাহী জেলার। ওই ১২ জনের মধ্যে ৩ জন করোনায় পজেটিভ ছিল। বাকি ৯ জন নমুনা পরীক্ষার আগে রোগটির উপসর্গ নিয়ে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। কিন্তু ওই দিন রাজশাহীর ১২ জন মারা গেলেও মৃত্যুর সরকারি হিসেবে এসেছে করোনায় পজেটিভ থাকা মাত্র ৩ জনের। রাজশাহী সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো বিবরণী থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফলে একদিনেই মৃত্যু হিসেবের বাইরে থেকে যায় ৯ জন।

এভাবে প্রতিদিন করোনা ইউনিটে মারা যাওয়া অনেকেই থেকে যাচ্ছে সরকারি হিসেবের বাইরে। যাদের ৯৯ ভাগই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন বলে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী। তিনি জানান, চলতি বছরের জুন মাসের ৩০ দিনে কোভিড ইউনিটে মারা যান ৪০৫ জন। এর মধ্যে নমুনা পরীক্ষার পর করোনায় পজেটিভ হয়ে মারা যান ১৮৯ জন। বাকি ২১৬ জন নমুনা পরীক্ষার আগেই করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান।

আর উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৯৯ ভাগই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে উঠে এসেছে। অন্যদিকে উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুই-একটার নমুনা নেগেটিভ আসে। হাসপাতাল পরিচালক বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর করোনায় আক্রান্ত নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের কোভিড ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এরপর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠায়। নমুনা পরীক্ষার আগে যারা মারা যায় তাদের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার তালিকায় রাখা হয়।

এ বিষয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাউয়ুম তালুকদার বলেন, হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন আমাদের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। সে অনুযায়ী যারা করোনা শনাক্ত হওয়ার পর যারা মারা গেছে তাদের তালিকা বিভাগীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। আর উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার বিষয়ে কোন তথ্য পাঠানো হয় না। তবে মারা যাওয়ার পর কারও নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ আসে এবং সেটি যদি আমাদের নজরে আসে তার নাম করোনায় মৃতের তালিকায় যুক্ত করা হবে। কিন্তু এ ধরণের কোন নাম এখনো পায়নি বলেও জানান সিভিল সার্জন।

এদিকে, হাসপাতাল পরিচালকের দপ্তরের কর্মকর্তা সাখাওয়াত সুমানের পাঠানো প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত বছরের মার্চ মাসে এ হাসপাতালে করোনা ইউনিট খোলা হয়। তবে রোগী ভর্তি শুরু হয় এপ্রিল থেকে। প্রথম মারা যায় মে মাসে। সাখাওয়াত জানান, রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এ পর্যন্ত (মে-২০২০ থেকে জুন-২০২১ পর্যন্ত) মারা গেছেন ১ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে করোনা পজেটিভ ছিল ৩৪৬ জন। বাকি ৭৪৬ জন মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। ফলে এ থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায় এই ৭৪৬ ব্যক্তি করোনায় মৃত্যু তালিকায় বাদ পড়েছে।

হাসপাতাল সুত্র বলছে, রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে সবচেয়ে বেশী মারা গেছে চলতি বছরের জুন মাসে ৪০৫ জন। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৭, মার্চে ৩১, এপ্রিলে ৭৯ ও মে মাসে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর গত বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল জুলাই মাসে ১১১ জনের। এ পর্যন্ত রাজশাহীর কোভিড ইউনিটে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭ হাজার ১৬১ জন।

আর সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন পাঁচ হাজার ৯২৭ জন। সবচেয়ে বেশী রোগী ভর্তি হয়েছে চলতি বছরের জুন মাসে এক হাজার ৩৯৭ জন। এর আগে জানুয়ারিতে ২৩১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২০১, মার্চে ৩৩৪, এপ্রিলে ৬৫৪ ও মে মাসে ৮০৮ জন রোগী ভর্তি হন। আর গত বছর সবচেয়ে বেশী কোভিড রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয় জুলাই ৭৭৫ ও আগস্ট মাসে ৭৭৪ জন।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন