পুঠিয়া সংবাদদাতা : রাজশাহীর পুঠিয়ায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খাদিজা আক্তারকে (৪০) পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নিহতের মা নার্গিস বেওয়া। তিনি বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্বামী আব্দুল ওহাবকে আটক করেছেন। নিহত খাদিজার দুলাভাই আবুল কালাম বলেন, বিয়ের পর থেকেই দুই জনের মধ্যে প্রায় ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো।
এদিকে গতকাল বুধবার সকালে আমরা খবর পেয়ে খাদিজাকে দেখতে ছুটে এসেছি। তার লাশ দেখে মনে হয়েছে সে আত্মহত্যা করেনি। তার স্বামি পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। খাদিজার শরীরে আত্মহত্যার কোনো আলামত নাই। যার কারণে আমার মা (খাদিজার মা) বাদী হয়ে ওহাব ও তার মা রহিমা খাতুনকে আসামি করে বুধবার (৩০ জুন) বিকেলে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে ন।
এদিকে আব্দুল ওহাবকে পুলিশ হেফাজতে নেয়ার পর তিনি বলেন, আমি পরকিয়া করি এমন সন্দেহে স্ত্রী খাদিজা খাতুন প্রায় আমাকে সন্দেহ করতো। এই নিয়ে প্রায় দুই জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সেই ক্ষোভে হয়তো সে আত্মহত্যা করেছে। এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহরাওয়াদী হোসেন বলেন, কৃষি কর্মকর্তা মৃত্যুর ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে স্বামী ও শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে থানায় হত্যার অভিযোগ দিয়েছেন।
আমরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামিকে পুলিশ হেফাজতে রেখেছি। অপরদিকে লাশের ময়না তদন্তের জন্য বিকেলেই মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষ হলে আজকেই নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। উল্লেখ্য, নিহত খাদিজা আক্তার পবা উপজেলা কৃষি অফিসের অধিনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসাবে চাকুরি করতেন।
অপরদিকে তার স্বামি আব্দুল ওহাব রাজশাহী পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক। মঙ্গলবার (২৯ জুন) দিবাগত রাতের তিনি ঘরের তীরের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে তার স্বামি দাবী করেন। গতকাল বুধবার দুপুরে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করেন। তাদের বাড়ি উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে।