এফএনএস : বগুড়া সদর উপজেলায় সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পরিচয়ে প্রতারণা করে কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীকে বিয়ের অভিযোগে আবদুল আলিম (৩২) নামে এক প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল ও মিডিয়া মুখপাত্র) ফয়সাল মাহমুদ বিষয়টি জানান। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর থানা পুলিশ গোকুল ইউনিয়নের পলাশবাড়ী গ্রাম থেকে তাকে আটক করে।
আটক প্রতারক আবদুল আলিম পঞ্চগড় জেলার দেবিগঞ্জ উপজেলার ডাকিয়া পারা গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে ও পেশায় একজন বাদাম বিক্রেতা। এর আগেও তিনি চারটি বিয়ে করেন। তার দু’টি সন্তানও রয়েছে। থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলিমের সঙ্গে পলাশবাড়ি গ্রামের কলেজ পড়ুয়া এক মেয়ের মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় ১৪ থেকে ১৫ মাস প্রতারক নিজেকে পুলিশের এএসপি পরিচয় দিয়ে প্রেম চলমান রাখেন।
এরমধ্যে ১৮ জুন আলীম মেয়েটির বাড়িতে এসে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৫শ’ টাকা দেনমোহর দেখিয়ে তাকে বিয়ে করেন। প্রতারক আলীম মেয়েটির পরিবারকে জানান তিনি রংপুর জেলার সৈয়দপুর নামের কোনো এক পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বে আছেন। একপর্যায়ে গত বৃহস্পতিবার মেয়েটির পরিবারের সন্দেহ হলে আলিমকে জেরা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, তার পেশা বাদাম বিক্রেতা ও পাশাপাশি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেন।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়েটির পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ তাকে আটক করেন। বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল ও মিডিয়া মুখপাত্র) ফয়সাল মাহমুদ জানান, ঘটনাটি দুঃখজনক পাশাপাশি আমাদের সামাজিক সচেতনতার দিকটিও উঠে আসে। আমরা প্রতারককে গ্রেফতার করেছি তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতারক আবদুল আলিমের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দিয়ে তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।