স্টাফ রিপার্টার, বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় বিদেশী পিস্তল এবং দেশীয় অস্ত্রসহ দুই ব্যাক্তিকে আটক করেছে র্যাব। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার করারী নওশারা হবির চর এলাকা থেকে র্যাব সিপিসি-২ নাটোর ক্যাম্প ও রাজশাহী-৫ এর যৌথ অভিযানে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো, করারী নওশারা হবির চর এলাকার খোরশেদ মন্ডলের ছেলে একরাম মন্ডল (৩২) এবং উম্মত মন্ডলের ছেলে সাহাদুল মন্ডল (২৫)। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার সকালে বাঘা থানায় র্যাবের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব সিপিসি-২ নাটোর ক্যাম্প এবং রাজশাহী-৫ যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় ধৃত দুই আসামীর বাড়ি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং একটি দেশীয় অস্ত্র হাসুয়া উদ্ধার পূর্বক তাদের আটক করা হয়। র্যাব জানায়, আটককৃতরা এলাকার অস্ত্রধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী। জব্দকৃত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও হাসুয়া দিয়ে তারা দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে আসছিল।
তাদের সাথে আরো অনেকেই জড়িত আছে বলে এলাকাবাসি মনে করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, নাটোরের লালপুর, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এবং রাজশাহীর বাঘা উপজেলার শেষ সীমানা পদ্মার চরাঞ্চল। এক সময় এই জনপদে মানুষের বাড়ীর-হালের গরু ও মহিষ সহ ফসল লুট এবং এক বছরে ২০ টির অধিক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবে আলাদা আত্তপ্রকাশ ঘটে লালচাঁদ ও পান্না বাহিনীর।
পরবর্তীতে তত্বাবধায়ক সরকার আমলে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে দুই বাহিনীর প্রধানসহ চারজন সন্ত্রাসী বন্ধুক যুদ্ধে মারা যায়। এরপর থেকে চরাঞ্চলে তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়লেও অনেকেই এখন পর্যন্ত আত্তগোপনে থেকে পুনর্গঠিত হবার চেষ্টা করছেন।
এই মুহূর্তে যাদেরকে আটক করা হয়েছে, তারা ঐ বাহিনীর সদস্য এবং তাদের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে র্যাব বাদি হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র মামলা রুজু করায় আসামীদের অস্ত্র আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।