নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নওদাপাড়া হাট বন্ধ করতে সরেজমিনে ওসি
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মেডিকেল (রামেক) হাসপাতালে করোনা ইউনিটে গেল এক সপ্তাহে মৃত্যুবরণ করেছেন ৭২ জন। দেশে এপর্যন্ত কোভিড-১৯ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে প্রায় তের হাজার। আর প্রতিদিন গড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রায় চল্লিশ জন করে। দেশে করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮ লাখ ১৭ হাজার অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে, রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যার তালিকায় রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী নগরী।
করোনা টেস্টের ভিত্তিতে গত কয়েকদিনে, রাজশাহীতে আক্রান্তের গড় হার ৪৫.১৯ থেকে ৪৯.৪৩ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬০.৬৯ ৬১.৮৭ তে ওঠানামা করছে। যেটা করোনা ভাইরাসের অশনী সংকেত বলেই মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের। উপরন্তু রাজশাহী শহরে করোনার হটস্পষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিভিন্ন পন্থায় এখনো প্রবেশ করছে ঢাকাগামী মানুষ। কেউ কেউ কাজের আশায় পারি জমাচ্ছেন বিভাগীয় শহরেও।
যার কারণে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য আর সমাগম ঘটানোর বিষয়টি রাজশাহী শহরের জন্য অনেকটাই হুমকির স্বরূপ। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ছাড়াও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা মাঠে কাজ করছেন। সাধারণ মানুষের ভেতরে সচেতনতা সৃষ্টি আর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করানোর জন্য প্রশাসন সমস্ত শহরজুড়েই তৎপর থাকার পরেও অতি উৎসাহি মানুষ আর বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের মান্যতার পর্যায়ে আনার জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকলেও অনেক স্থানেই সেটার কিছুটা বিপরীতমূখী পরিস্থিতি লক্ষ্যনীয়।
এরমধ্যে অন্যতম হলো রাসিক অন্তর্গত ১৭নং ওয়ার্ডের সাপ্তাহিক হাটবাজার। সপ্তাহের রবি ও বুধবার এই দুদিন হাটে সমাগম ঘটে অসংখ্য ক্রেতা-বিক্রেতার। প্রশাসন কর্তৃক বিকেল পাঁচটা নির্ধারিত সময় বেঁধে দিলেও অনেকেই সেই নিয়মনীতি আর বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করছে না বলে অভিযোগ থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গতকাল বিকেল পাঁচটায় শাহমখদুম থানার অফিসার্স ইনচার্জ অন্যান্য স্থানের মতো নিজেই টিম নিয়ে হাটে গিয়ে ছিলেন পরিস্থিতি দেখার জন্য।
পুলিশ সদস্যরা হাতে মাইক ও মুখে বাঁশি নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাট ত্যাগ করার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করলেও অনেকেই সেটা পালন করতে অনীহা প্রকাশ করাতে ওসি নিজেই হাটের ভেতর গিয়ে ক্রেতা বিক্রেতাদের হাট ত্যাগ করার জন্য মুখে বাঁশি নিয়ে অনবরত বাজাতে থাকেন। আর সেই অনবরত বাঁশি বাজানোর কারণে কিছুক্ষণের মধ্যেই অসংখ্য ক্রেতা বিক্রেতার উপস্থিতি কমতে শুরু করে। এবং মাত্র বিশ মিনিটের মধ্যেই পুরো হাট ফাঁকা হয়ে যায়।
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দেশে সনাক্ত হবার পর থেকে হুহু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা আক্রান্তের সঙখ্যা। আর এজন্য অনেকটাই দায়ি স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করা জনগণের একাংশ বলে মন্তব্য ওসি সাইফুল ইসলামের। সাধারণ মানুষের একাংশ এখনো সরকারি বিধিনিষেধ সঠিক ভাবে পালন করছে না। প্রশাসনের লোকবল তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা প্রয়োগ করেও অনেকটাই হিমশিম খাচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষদেরকে ঘরমুখি করতে।
প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে থানার কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনাভাইরাস মোবাবেলা আর সংক্রমণ প্রতিহত করতে সর্বদা মাঠে কাজ করছেন বলেও জানান শাহ্মখদুম থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল নওদাপাড়া হাটে অসংখ্য মানুষের ভিড়ে নিজেই টিম নিয়ে নেমে পড়েছিলেন অযাচিত সমাগম ঠেকাতে। তিঁনি আরো বলেন, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি পালন সাপেক্ষে সাপ্তাহিক হাটবারে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত নির্ধারিত সময় বেঁধে দেবার পরেও অসচেতন
ও অতিকৌতুহলী ক্রেতা বিক্রেতারা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নিয়মকে তোয়াক্কা না করে সন্ধ্যা অবদি হাটে বিকিকিনি কর্মকান্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ আসাতে আমি একটি টিম নিয়ে উক্ত হাটে গিয়ে মাইকে বারবার বলার পরেও অনেকেই অমান্য করার প্রবণতা দেখানোর প্রেক্ষিতে কিছু শক্ত অবস্থানে যাওয়া মাত্রই তরিঘরে করে সকল ক্রেতা বিক্রেতারা হাট থেকে যেতে শুরু করেন। দেশের মানুষের অসচেতনতা আর সরকারি নিয়মনীতি পালনে অনিহার বিষয়গুলো একদিকে যেমন লজ্জাজনক, ঠিক অন্যদিকে দেশের মানুষ হিসেবে দায়িত্ব ও কতর্ব্যহীনতার বিষয়ও বটে।
তিনি আরো বলেন, শাহমখদুম থানাধীন প্রতিটি মোড় ও পাড়ামহল্লা প্রশাসনের নজরদারিতে আছে। সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল সেটিও যথার্থভাবে পালন করছেন ব্যবসায়িরা। সমস্যা শুধু সপ্তাহের রবি ও বুধবারের সাপ্তাহিক হাটের দিন। এই বিশেষ দুই দিনে প্রশাসনের লোকজনকে অতিরিক্তি শ্রম দিতে হয় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে আনা আর স্বাস্থ্যবিধি মান্যতার বিষয়টির দিকে।
এদিকে, উক্ত এলাকার সচেতন মহলের বক্তব্য হলো, সাধারণ মানুষ যদি একটু সচেতন হয় আর সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলে তবেই সংক্রমণ প্রতিহত করা সম্ভব। কিন্তু ১৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মান্য করার প্রবণতা নিতান্তই অনেক কম। দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ জাগ্রত না হলে এই ভয়ঙ্কর ভাইরাস থেকে পরিত্রাণ পাওয়াটাও অনেক কঠিণ হয়ে দাড়াবে।
