৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

রাজশাহী নগরীতে পুকুরে বিলিন হচ্ছে রাস্তা, জনদুর্ভোগ চরমে

প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২১, ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
রাজশাহী নগরীতে পুকুরে বিলিন হচ্ছে রাস্তা, জনদুর্ভোগ চরমে
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : পুকুর আছে, পাড় নাই। কিছুদিন না যেতেই কোটি টাকার রাস্তা ধ্বসে পড়ে পুকুরে। বর্তমানে জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ধারে গড়ে উঠা পুকুরগুলোর কারনে রাস্তার এরকম ভেঙে পড়ার চিত্র সবখানেই চোখে পড়ে। ঠিক তেমনটিই রাজশাহী নগরীর মতিহার থানাধীন ধরমপুর-খোজাপুর গ্রাামের চলাচলের একমাত্র রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় চরম জনদুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। এর কারণ হিসেবে স্থানীয় লোকজন দায়ী করেছেন পুকুরের মালিক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদেরকে।

নতুন নির্মিত রাস্তায় (প্যালাসাইডিং বা রিটানিং) ওয়াল তৈরি না থাকায় রাস্তাটি ভাঙতে শুরু করেছে আবার কোথাও রাস্তার অর্ধেকটাই পুকুরে বিলীন হয়ে গেছে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই রাস্তা বা সড়ক অল্প দিনের মধ্যেই যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারের প্রতিবছর রাস্তা মেরামতে কোটি কোটি টাকা জলে পড়ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, পুকুরের মালিক নিজেদের স্বার্থে মাছ চাষের জন্য পুকুরটি লীজ দেন। কিছুদিন না যেতেই এসব রাস্তা গিলে ফেলে পুকুরে। অল্প অল্প করে ভাঙতে ভাঙতে বর্তমানে পুরো রাস্তাটিই যেন পুকুরে বিলীন হতে চলেছে। এতে জনসাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। বছরের পর বছর এসব ভাঙা রাস্তার আর মেরামত হয় না। পুুকুরধারে রাস্তা ভাঙনের জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর কোন কার্যকর পদক্ষেপও নেয় না। যার ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারী এই রাস্তা ভেঙ্গে গিয়ে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। অনতিবিলম্বে পুকুরের পাশে গাইড ওয়াল দিয়ে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর ২৮নং ও ২৯নং ওয়ার্ডস্থ ধরমপুর-খোজাপুর গ্রামের এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গুরুত্বপূর্ণ যানবাহন, ব্যবসায়ী সহ হাজারো মানুষ আসা-যাওয়া করে। আর এই রাস্তাটির পাশ ঘেষে প্রায় সাড়ে ৪ বিঘা জমির উপর রয়েছে একটি পুকুর। যেটি কানামার পুকুর নামে পরিচিত। এই পুকুরে পাড় না থাকায় রাস্তা ভেঙ্গে পড়ে যাচ্ছে। পুকুরে বিলিন হওয়া রাস্তার এই ভাঙা অংশটি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ২৯নং ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে বলে জানা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রাস্তার পাশে মাছ চাষের জন্য পুকুরটি ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ দিন ধরে পুকুর মালিক মোঃ কুরবান হাজী’র কাছ থেকে লীজ নিয়ে এই পুকুরে মাষ চাষের ব্যবসা করে আসছেন একই এলাকার মৃত কামালের ছেলে ইতি (৩৫)। মাষ চাষে তাদের পরিবার লাভবান হলেও ক্ষতি হচ্ছে ওই গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র সরকারী রাস্তাটির। পুকুরটি যেন কাল হয়ে দাড়িয়েছে জনগুরুতপূর্ণ এই রাস্তাটির।

অভিযোগের বিষয়ে লীজ গ্রহীতা ইতির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুকরটি মুলত পাশের পুকুর ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে ঘটেছে। আমি এটি ব্যক্তিগতভাবে কয়েকবার ঠিক করেছি এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। এবিষয়ে ২৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ আশরাফুল হোসেন বাচ্চু বলেন, বিষয়টি আমি অবগত আছি এবং চলমান প্রজেক্টে কাজটি দেওয়া আছে। খুব শীঘ্রয় এটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। এবিষয়ে ২৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ মাসুদ রানার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন