বাগমারায় পাউবো’র স্লুইজ গেটের পাল্লা নষ্ট, সংস্কারের উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের
মচমইল থেকে সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারা থানার সন্নিকটে সোনা বিলা ও দুবিলসহ তিনটি বিলের পানি প্রবাহের পাউবো’র বাধেঁর স্লুইজ গেটের পুরাতন পাল্লা (ফলা) নষ্ট থাকায় প্রতি বছর কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত ৩/৪ বছর আগে গেটের পাল্লা ভেঙ্গে পড়ায় বর্ষা মওসুমে বিলের চারিধারের হাজার হাজার বিঘার ফসলী জমিসহ বাড়ি-ঘর নিয়ে কৃষকরা বিপাকে রয়েছেন।
বন্যায় স্থানীয় কৃষকরা বস্তা দিয়ে পানি আটকাতে বার বার বস্তা ফেলেও কোন সফলতা পায় না। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে একাধিকবার আবেদন করলেও কোন লাভ হয়নি বলে কৃষকরা দাবি করেছেন। এদিকে স্লুইজ গেট মেরামত ও পানি নিষ্কাশনের নালা (দাড়া) সংস্কারের দাবিতে এবারে বিলের ধারের কয়েকশত কৃষককের স্বাক্ষরিত একটি আবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিল করেছেন।
জানা যায়, উপজেলার বাসুপাড়া ও গণিপুর ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি বাঁধ রয়েছে। বিলের পানি প্রবাহের ধারা রক্ষার্থে বাগমারা থানার নিকটে কয়েক কোটি টাকা খরচে সোনা বিলা মুখে স্লুইজ গেট করা হয়। গেটটির একটি পাল্লা গত কয়েক বছর আগে ভেঙ্গে যায়। এতে প্রতি বছর ভারি বর্ষণ, বন্যার পানি বৃদ্ধি, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের ও নদীর পানি ভাঙ্গা গেট দিয়ে ৩টি বিলে প্রবেশ করে বালানগর, শ্যামপুর, মোহম্মাদপুর, বাগমারা, একডালা, মাঝিগ্রাম পোড়াকয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার বিঘা জমির আমন-আউশ ধান, মরিজ, পানবরজ ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
স্থানীয়রা ভাঙ্গা গেটে বস্তা মেরে পানি আটকাতে চেষ্টা করে ফল মিলে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ পাউবো’র অবহেলা ও উদাসীনতায় কোটি টাকা ব্যায়ের স্লুইজ গেটের দুরবস্থায় তারা ব্যাপক ক্ষতির সন্মুখীন হয়ে পড়ছে। বিলের ধারের বালানগর, মোহম্মাদপুর, বাগমারা, একডালা, শ্যামপুর, মাঝিগ্রাম, পোড়াকয়া গ্রামের অধিকাংশ লোকের বিলের ধারে দামি আবাদ পানবরজ রয়েছে। বিলের মধ্যে যে ভাবে পানি প্রবেশ করে গত কয়েক বছর তারা ক্ষতির সম্মুুখীন হচ্ছে তা দেখেও কেউ ব্যবস্থায় এগিয়ে আসেনি।
কৃষকরা জানান, বর্ষা মওসুমে পানির চাপ আবার খরার সময় বিলের পানি প্রবাহের নালা (দাড়া) সংস্কার না থাকায় নীচে জমির পানি নামতে না পেরে বোর ধানচাষ আবাদ হুমকির মুখে পড়ে। বর্ষা মওসুমে নদীর পানি প্রবেশ করে বিলের ধারের মানুষের বেহাল অবস্থায় পড়তে হয়। বার বার বন্যায় ক্ষতিতে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
বালানগর গ্রামের আলতাফ হোসেন, খাদিবুর রহমান, আবুল হোসেন, দুলাল উদ্দিন, মজিবর রহমান, জালাল উদ্দিন, সাবের আলীসহ অনেকে জানান, স্লুইজ গেটের মুখ দিয়ে প্রবল বেগে বন্যার পানি প্রবেশ করায় সোনা বিলা ও মোহম্মাদপুর-একডালা বিলের হাজার হাজার বিঘা জমির রোপা, আমন ও আউশ ধান, পাট, পটল, করলা, বেগুন এবং পানবরজসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যায়। বন্যায় নদীর পানি প্রবেশে বাড়ি-ঘর নিয়ে তারা হুমকির মধ্যে পড়েছে।
এতে করে পাউবো’র কার্যক্রমের কোন ব্যবস্থায় এগিয়ে আসছেন না। অভিযোগকারীরা বলেন, এলাকায় বর্ষা মওসুমে ব্যাপক ক্ষতির সন্মুখীন দেখে উচ্চ মহল হাহুতাশ করেন। কিন্তু পরবর্তিতে বিষয়টি কেউ আমলে নেয় না। তাই বিষয়টি তদন্ত পুর্ববক ব্যবস্থা নেয়ার তারা দাবি করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান বলেন, স্লুইসগেটের পাল্লা নষ্ট থাকায় এলাকার কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্ষার আগে পাল্লাটি সংস্কার করা না হলে চাষিরা সঠিক ভাবে ফসল উৎপাদন করতে পারবেনা। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, কৃষকদের আবেদনপত্রটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তারা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।
