২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ত্রিপুরায় ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’

প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২১, ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: lead
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ত্রিপুরায় ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’
বিজ্ঞাপন

এফএনএস : বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের’ রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার ওই রোগীর সন্ধান পান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত ওই নারীর বয়স ৬৮ বছর। তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার আইএলএস হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ত্রিপুরার শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানকার সাংবাদিকদেরকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সংবাদ ও দৈনিক দেশের কথা পত্রিকায় প্রকাশিত খবর সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে এখন নতুন করে ব্ল্যাক ফ্যাঙ্গাসের রোগীর সন্ধান পাওয়ায় রাজ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

একই সঙ্গে চিকিৎসকরাও দিশেহারা অবস্থায় আছেন। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস (কালো ছত্রাক) হলো একটি বিরল সংক্রমণ। এটিকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় বলে মিউকোরমাইকোসিস। মিউকোর নামে একটি ছত্রাকের সংস্পর্শে এলে এই সংক্রমণ হয়। এই ছত্রাক সাইনা, মস্তিষ্ক ও ফুসফুকে আক্রান্ত করে। ডায়াবেটিস, ক্যান্সার বা এইচআইভি এইডস যাদের আছে কিংবা কোনো রোগের কারণে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এই মিউকোর থেকে তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

চিকিৎসকরা বলছেন মিউকোরমাইকোসিস থেকে মৃত্যুর আশঙ্কা ৫০ ভাগ। সাধারণত এই ছত্রাক পাওয়া যায় মাটি, গাছপালা, সার এবং পঁচন ধরা ফল ও শাক সবজিতে। এটা মাটি ও বাতাসে এমনিতেই বিদ্যমান থাকে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হলে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, নাক থেকে রক্ত পড়া, চোখে ব্যথা, চোখ ফুলে যাওয়া, চোখের পাতা ঝুলে পড়া, চোখে ঝাপসা দেখা, যার থেকে পরে দৃষ্টিশক্তি চলে যায়, নাকের চামড়ার চারপাশে কালো ছোপ ছোপ দাগ দেখা দেয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

এখানে উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ওপারে আগরতলা বন্দর দিয়ে সে দেশ থেকে বাংলাদেশি যাত্রী আসা অব্যাহত রয়েছে। যে কারণে একটা শঙ্কা থেকেই যায়। শুক্রবার পর্যন্ত ৯৪৭ জন আখাউড়া দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর মধ্যে ভারতীয় হাইকমিশনে চাকরি করেন এমন কয়েকজন রয়েছেন। অবশ্য ভারতফেরতদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত দৈনিকগুলো সূত্রে জানা যায়, ত্রিপুরায় করোনা পজেটিভ রোগীর সংখ্যা ৪৪ হাজার ছাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৫৪ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৮৬৩ জন আক্রান্ত হন ও দুজন মারা যান। বর্তমান সময়ে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হওয়ায় সেখানে আতঙ্ক বেড়েছে। রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় ২৪ ঘণ্টা কারফিউ জারি করা হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় রাতে কারফিউ চলছে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন