৭ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

রাজশাহীর মিঠাই বাজার কারখানার সামনে চলাচল বন্ধ করার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৮ মে ২০২১, ৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
রাজশাহীর মিঠাই বাজার কারখানার সামনে চলাচল বন্ধ করার অভিযোগ
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন ২২ নং ওয়ার্ড অন্তর্গত সাগরপাড়া ভোলানাথ স্কুলরোড সংলগ্ন মিঠাই বাজার মিষ্টি কারখানার যাতায়াতের একমাত্র পথ ময়লা আবর্জনা মিশ্রিত মাটি ও নির্মাণ সামগ্রী ফেলে বন্ধ করে দেবার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ঐ কারখানার মালিক পাভেল গতকাল বিকাল তিনটায় নিজস্ব কারখানায় সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন। ইচ্ছাকিতভাবে ও অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে চলাচলসহ আমার ব্যবসা বাণিজ্যে বাঁধাবিঘ্ন সৃষ্টি করা ছাড়াও অবৈধ পন্থায় জোড়পূর্বক উচ্ছেদ করার অপচেষ্টা চালানোর প্রেক্ষিতে উক্ত ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পাবার আশায় ভুক্তভোগী গত ৬.৫.২০২১ ইং তারিখে ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ঐ কারখানার মালিক মিয়াপাড়া নিবাসি ওয়াসে উদ্দীন আহম্মদ পাভেল গতকাল তার নিজস্ব কারখানায় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে উক্ত ভোগান্তির বিষয়টিসহ মোটা অংকের নগদ অর্থের বিনিময়ে করা চুক্তিভিত্তিক ভাড়া নেওয়া কারখানাটি নিয়ে চলমান নানাবিধ অনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়গুলোও তুলে ধরেন।

গতকাল বিকাল তিন ঘটিকায় কারখানার ভেতর আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ভুক্তভোগী কারখানা মালিক ওয়াসে উদ্দীন আহম্মেদ পাভেল অভিযোগ করে বলেন, সাগরপাড়া নিবাসি মৃত শাহ্ মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রী সালেহা খাতুনের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে লিখাপড়া করা বাবদ একাধিক স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে এককালিন নগদ ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা (পরবর্তীতে জামানতের সমুদয় অর্থ ফেরত দেওয়া সাপেক্ষে) মাসিক দুই হাজার টাকা ভাড়া বাবদ উক্তস্থানটিতে মিষ্টির কারখানা নির্মাণ করার জন্য গত ০১.৮.২০০৬ ইং তারিখে একটি বৈধ চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হয়।

সেহিসেবে মাসিক ভাড়া ধার্য করা হয় দুই হাজার টাকা। চুক্তিনুযায়ী তফশীল বর্ণিত সম্পত্তির উপর ভুক্তভোগী পাভেল সেমি পাকা ঘরসহ একটি কারখানা নির্মাণ করেন। চুক্তি অনুযায়ী, পাঁচ বছর পর পর ভাড়া ২০ শতাংশ বাড়বে। সে অনুযায়ী নিয়মিতভাবেই ভাড়া পরিশোধ করছেন পাভেল। প্রায় ছয় বছর আগে সালেহা বেগম মারা যান। এরপর পাভেল মৃত সালেহার মেয়ে ইলা বেগম ওরফে সায়েদা বেগমকে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কে ভাড়া নেবেন, সেটি নিয়ে পরবর্তী সময়ে সালেহা বেগমের ওয়ারিশদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও আন্তকোন্দল দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে পাভেল আদালতের দ্বারস্থ’ হন। বিজ্ঞ আদালত ঠিক করে দেন সালেহা বেগমের ছেলে সালাহউদ্দিন রাজুকে ভাড়া দিতে হবে।

এরপর থেকে পাভেল নিয়মিতই ভাড়া প্রদান করে আসছেন। হঠাৎ ২০১৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর জমির ওয়ারিশেরা পেশীশক্তি ব্যবহার করে উক্তস্থানে ঘর তুলতে শুরু করেন। এ নিয়ে স্থানীয় ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন পাভেল। ভুক্তভোগীর দেওয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার অভিযুক্তরা ইট আর ময়লা মাটি ফেলে কারখানার চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। এছাড়াও অভিযুক্তরা পাভেলকে নোংড়া নোংড়া ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি কারখানা সেখান থেকে উচ্ছেদ করার জন্য ঘরের টিনগুলো খোলার অপচেষ্টা করে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, ইট ও ময়লামাটি ফেলে কারখানার রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যার কারণে এই ঈদ মৌসুমে কারখানার উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে বাধাগ্রস্থ হবার পাশাপাশি স্বাভাবিক উৎপাদন প্রক্রিয়াও ব্যহত হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগী পাভেল। এতেকরে পাভেলের ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। পাভেল বলেন, এখানে আমার অনেক টাকা বিনিয়োগ করা আছে। চুক্তিরও মেয়াদ শেষ হয়নি। এ অবস্থায় আমাকে অবৈধভাবে উচ্ছেদের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের কাছে আবারো লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগি পাভেল।

তিনি জানান, চুক্তিপত্রে সালেহা খাতুন স্বাক্ষর দিয়ে গেছেন। এই ধৈ চুক্তির একাধিক স্বাক্ষীও আছেন। এরপরও চুক্তিপত্র লঙ্ঘন করে তাঁকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন রাজু দাবি করেন, চুক্তিপত্রটি জাল। তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে আমার বাবা মারা গেছেন। তাহলে সেই সময় থেকেই আমরা এই জমির ওয়ারিশ। আমার মা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর দিলেও সেটা আইনসম্মত নয়। তারপরও আমরা জেনেছি, চুক্তিপত্রটি জাল। এখন আমার জমিতে আমি ইট ফেলব, নাকি মাটি ফেলব সেটা আমার বিষয়।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন