২৮ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

নগরীতে বেড়েছে প্লাস্টিক কাপের ব্যবহার যত্রতত্র ফেলায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা

প্রকাশিত: ৪ মে ২০২১, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: স্পেশাল নিউজ
নগরীতে বেড়েছে প্লাস্টিক কাপের ব্যবহার যত্রতত্র ফেলায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরিতে চলমান লকডাউনে আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে প্লাস্টিক ও সমজাতীয় কাপের ব্যবহার। যেটা অনেকেই বলে থাকেন ওয়ান টাইম গ্লাস বা কাপ। একবার ব্যবহার করেই পেয়ালাগুলো যেহেতু ফেলে দিতে হয় তাই এটাকে ওয়ান বলেই চেনেন সবাই। করোনাকালীন সময়ে সাধারণ ও সচরাচর কাপে চা খেতে সচেতন গ্রাহকদের অনিহার কারণেই গেল বছরের লকডাউনের মতো এবারো চাহিদা বেড়েছে ওয়ান টাইম কাপের।

করোনাকালীন সময়ে এই ধরনের সচেতনতার বিষয়টি মন্দ না হলেও বিপরীতমূখি কিছু প্রতিক্রিয়াও তৈরি হচ্ছে ওয়ান টাইম এই কাপকে ঘিরে। যা কিনা পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার হুমকি রূপে প্রতিয়মান হচ্ছে কোথাও কোথাও। ক্রেতা ও বিক্রেতার অসচেতনতার কারণ ছাড়াও রাসিকের সংশ্লীষ্ট শাখাও এরজন্য অনেকটাই দায়ি বলে মন্তব্য সচেতন নাগরিকদের।

রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন মোড়ের চা স্টলে লক্ষ্য করা গেছে ওয়ানটাইম গ্লাসের ব্যবহার। কাস্টমারের চাহিদা মেটাতে বিক্রেতারা নিজেদের সংগ্রহে রাখছেন কাপগুলো। চা কাস্টমাররা চা খেয়ে কাপগুলো যত্রতত্র ফেলে দিচ্ছেন। কোথাও কোথাও লক্ষ্য করাগেছে বিশ পঁচিশটি করে কাপ একত্রে পড়ে আছে রাস্তা কিংবা ফুটপাতের উপর। কোথাওবা ড্রেনের মধ্েয জমাট হয়ে বাঁধাগ্রস্থ করছে পানির প্রবাহকে। কোথাও কোথাও দলবদ্ধভাবে চা পান করার পর সেগুলোকে একত্রিত করে পোড়ানো হচ্ছে মশা নিবারণের জন্য। কুমারপাড়া পদ্মারপাড়ে নদীর বাতাস খেতে আসা বেশকিছু তরুণ ও যুবককে দেখাগেছে চা পান করার পর সেগুলো আগুণ দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে।

বিষয়টি দেখে তাদেরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেনো পুড়াচ্ছেন কাপগুলো? প্রতুত্তরে তারা বলেন, এখান থেকে ধোয়ার যে কুন্ডলি নির্গত হবে সেই ধোয়ার কারণে আমাদেরকে ঘিরে থাকা হাজারো মশাগুলো মুহূর্তেই এইস্থান থেকে পালিয়ে যাবে। তারা নিজেদের মন্তব্েযর সাথে আরো একটু যোগ করে বলেন, চা পান করার পর সেগুলো আগুণ দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার আরো একটা অন্যতম কারণ হলো, অসাধু চা বিক্রেতারা অক্ষত কাপগুলো কুড়িয়ে নিয়ে ভাল করে ধৌত করে সেগুলো পুণরায় ব্যবহার করে। তাদের এই মন্তব্েযর সত্যতাকে ফেলে দেবার মতো নয়।

কারণ, চা বিক্রেতারা ৭০-৮০ টাকা দরে কিনছেন একশটি করে কাপ। সেহিসেবে প্রতিটি কাপের মূল্য পড়ছে প্রায় একটাকা করে। নগরীর রেলগেটের একাধিক স্থান ছাড়াও লক্ষিপুর, বহরমপুর, ভদ্রা, তালাইমারিসহ নগরীর অনেকস্থানেই দেখামেলে ওয়ান টাইম কাপের ব্যবহার। এছাড়াও পাড়ামহল্লার দোকানগুলোতেও লক্ষ্য করা গেছে এই কাপের ব্যবহার। দু-একটি স্থানে রাসিকের দেয়া ছোট ছোট প্লাস্টিকের ডাস্টবিনে ব্যবহৃত কাপগুলো ফেলা হলেও অধিকাংশ স্থানেই লক্ষ্য করাগেছে যত্রতত্র ফেলার প্রবোণতা।

প্লাস্টিকজাতীয় বর্জ্য পোড়ানোর ফলে শ্বাসকষ্ট সহ বোমি বোমি ভাব হওয়া ছাড়াও শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতিসহ ঐ ধোয়া ক্যান্সারের কারণ হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এবিষয়ে ভারতের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিডিয়াম রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টিং’ এর বিজ্ঞানি উপল সাহা এক স্টাটাসে লিখেছেন, প্লাস্টিক বর্জ্য পোড়ানোর ফলে সালফার ডাইঅক্সাইড, ড্রাই-অক্সি সহ যে দূষিত গ্যাস বেরোয় তাতে শ্বাসযন্ত্রে সমস্যার পাশাপাশি ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন