রাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে অংশগ্রহণের প্রত্যাশা সুইটের
স্টাফ রিপোর্টার : রাজনীতির পটপরিবর্তনের পর বাধা-বিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতাহীন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগকে হাতছাড়া করতে চাচ্ছেন না বিএনপি’র অনেক প্রত্যাশি নেতারা। দীর্ঘসময় ধরে রাজনীতি, দল ও নেতাকর্মীদের পেছনে ত্যাগ ও অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অনেকেই চাচ্ছেন নিজেকে আরো বেশি জনমানুষের সাথে সম্পৃক্ত করতে। এর ধারাবাহিকতায় পিছিয়ে নেই রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতাগণ। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হয়ে জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন ঘটিয়ে নগবাসির মনের গহীনে পৌঁছাতে চাচ্ছেন অনেকে নেতাই। তাদেরই একজন একসময়ের তুখোর ছাত্রদল ও যুবদল নেতা, বর্তমানে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাজ আজাদ সুইট। যিনি এখন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আরডিএ-এর চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। দল চাইলে কিংবা দলের হাইকমান্ডের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনি রাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা পোষণ করেন এবং সে মোতাবেক প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে জানান সুইট।
শিক্ষার্থী অবস্থায় ১৯৯৫ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আসা এই নেতা বেশ সুনাম ও খ্যাতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছেন ছাত্রদল ও যুবদলের গন্ডি। রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক এই সভাপতি নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মনকোঠায় স্থায়ীভাবে আসন গাড়তে সক্ষম হয়েছেন। পরবর্তীতে হয়েছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি। সর্বশেষ দায়িত্ব পেয়েছেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের। আরডিএ’র চেয়ারম্যান হবার পর থেকেই নগরবাসির নানা সমস্যা ও ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত বেআইনী কাজের বিপরীতে নানাপ্রতিকূলতার মধ্যেও দেয়াল হয়ে দাঁড়ানোর বিষয়ে অগ্রগ্রামী ভূমিকাও পালন করেছেন খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে। নাগরিক সেবার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করার বৃহৎ সেই বাসনা আরডিএ’র চেয়ারম্যান হবার পর থেকে তিনি আরো বেশি উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।
কথোপকথনে আবুল কালাজ আজাদ সুইট বলেন, ‘দল থেকে যদি আমাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন কয়েক ধাপ বৃদ্ধি করতে চাই। জনগণ তথা নাগরিকদের ভোগান্তি হ্রাসে যে পরিমাণ মানসিক তৃপ্তি আছে; সেটা অন্য কোথাও নেই। তাই জনগণের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হবার মাধ্যমে নাগরিক সেবার সাথে নিজেকে অতিসহসায় আরো সম্পৃক্ত করার একটা সুযোগ থাকে। আর যদি দল অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়, তবুও সেই প্রার্থীর জন্য ও দলের জন্য নির্বাচনী মাঠে নির্বিঘ্নে ভোটের কাজ করে যাবো’। তিনি বলেন, ‘যদি আমি দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হতে পারি, তবে রাজশাহী নগরবাসিকে একটি নিরাপদ, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত কর্মময় নগরী উপহার দেবো ইনশাআল্লাহ’। নাগরিক সেবার মধ্যে একটা আত্মতৃপ্তি আছে, বলেন মি. সুইট। আরডিএ’র চেয়ারম্যান হয়ে ইতোমধ্যেই আমি সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অনেক শুভকামনা ও ধন্যবাদ পেয়েছি। আমি নিজেকে নাগরিক সেবার দৌরগোড়ায় নিতে চায়। ১৯৯৫ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতিতে আমি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছি। তাই দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই আমার জন আশির্বাদ বলে মেনে নেবো’।
উল্লেখ্য, গণমাধ্যম ও সোস্যাল মিডিয়ার প্লাটফর্মগুলোতে স্থানীয় নেতাদের অনুসারিদের প্রচার প্রচারণা ও দোয়া সমর্থন চেয়ে দৌড়ঝাঁপের বিষয়টি চলমান রয়েছে প্রায় বছরজুড়ে। এছাড়াও নানাপন্থায় উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নাম পরিচয়। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে এবার ক্ষমতাসীন বিএনপির হাফডজন নেতা মেয়র প্রার্থী হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তারা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। জোরেশোরে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, সৈয়দ শাহীন শওকত, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মামুনুর রশিদ মামুন, মাহফুজুর রহমান রিটন, আবুল কালাম আজাদ সুইট, ওয়ালিউল হক রানা। তবে দল এখনো কাউকে গ্রিন সিগন্যাল দেয়নি। এবার বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনার সমীকরণটা একটু বেশি। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ মেয়র পদে প্রার্থী হতে চাওয়া এই নেতারা।
চলতি বছরের ২৩ জুন তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতির বিষয়ে আয়োজিত এক সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান বলেন, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পরপরই, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। এই ঘোষণার পর থেকেই রাসিক মেয়র প্রার্থী কেন্দ্রিক আশা-আকাঙ্খার প্রতিচ্ছবি বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিওবা জাহেদ-উর-রহমানের সেই ঘোষণার আগে থেকেই মেয়র প্রার্থীর বিষয়টি নিয়ে কানাঘঁষার পাশাপাশির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমেও উঠেছে একপ্রকার ঝড়। নির্বাচনের দিকে দিন যত এগুচ্ছে, সেই ডামাডোল সুপ্ত থেকে বেরিয়ে আসছে প্রকাশ্যে। রাজশাহী মহানগর বিএনপি থেকে সিনিয়র-জুনিয়র মিলে প্রায় হাফডজনের মতো নেতা আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীতার জন্য মুখিয়ে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী।
