স্টাফ রিপোর্টার : চলমান সপ্তাহব্যাপী লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহী মহানগরীর পাড়া মহল্লাসহ শহরের লক্ষনীয় সংখ্যক দোকান খোলা দেখ যায়। মহানগরী ঘুরে দেখা গেছে নিউমার্কেট, থীম ওমর প্লাজা ছাড়া অন্যান্য বড় মার্কেটের দোকনগুলো খোলে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। রাজশাহী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, গত সোমবার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়। সেখানে দোকান খোলা রাখার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে তা জানানো হবে। তাই আমরা দোকান খোলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেইনি।
কিন্তু ব্যবসায়ী যারা নিরূপায় হয়ে গেছেন তারাই মূলত দোকান খুলেছেন বলেও জানান তিনি। লকডাউন উপেক্ষা করে দোকান খুলেছেন রাজশাহীর সবচেয়ে বড় বিপনী বিতান আরডিএ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ধীরে ধীরে দোকান খোলেন মালিকরা। মালিকদের দাবি বাধ্য হয়েই তারা দোকান খুলেছেন। আরডিএ মার্কেটের ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বলেন, আমাদের নির্দিষ্ট সময় ব্যবসা করার সুযোগ দিতে হবে। না হয় আমরা কিভাবে চলব। আমাদের কর্মচারীদের বেতন, দোকান ভাড়া কিভাবে দেব।
রফিকুল ইসলাম রবি নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা গত একবছর ধরে ক্ষতির মধ্যে রয়েছি। গত ঈদে দোকান বন্ধ থাকায় যা ক্ষতি হয়েছে সেটি থেকে এখনো বের হতে পারিনি। সামনে ঈদ, এই সময়ে ব্যবসা করতে না দিলে ব্যবসায়ীরা নিঃশ্ব হয়ে যাবে। আহমেদুল হক মামুন নামে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের লাখ লাখ টাকার মাল আটকে রয়েছে। পণ্য বিক্রি করতে না দিলে কিভাবে ব্যবসা চলবে? গার্মেন্টস ব্যবসা ঈদের মৌসুমে বেশি হয়। সরকার দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় দোকান খুলতে দিক, আমরা স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিশ্চিত করে পণ্য বিক্রি করব।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু আসলাম বলেন, দোকান খোলা রাখার কথা না। আমাদের ভিজিল্যান্স টিমগুলো তা দেখবেন। পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা দেখবেন। দোকান তেমন খোলা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার ওসি নিরারণ চন্দ্র বর্মন বলেন, আমরা কাউকে দোকান খুলতে মানা করছি না। অল্প সংখ্যক দোকান খোলা আছে। দোকানদাররা বলছেন, তারা দোকান পরিষ্কার করার জন্যে খুলেছেন। হিসাব করার জন্যে বসেছেন। তারা অল্প সময় পর দোকান বন্ধ করে দেবেন বলেও জানিয়েছেন।
এদিকে, লকডাউনের দিতীয় দিনে রাজশাহীতে মাঠে ছিলো প্রশাসন। মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে নগরের বিভিন্ন মোড়ে চলছে জেলা প্রশাসেনর ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিনা প্রয়োজন ও মাস্ক ছাড়া বাহিরে বের হওয়া লোকজনকে দেয়া হচ্ছে আর্থিক দন্ড। রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম বলেন, লকডাউনে সরকারের সকল নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন কাজ করছে। আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। বাইরে বের হলে মাস্ক পরতে বাধ্য করছি, না পরলে অর্থদন্ড দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২২ জনের ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদের এই ভ্রাম্যমান আদালত অব্যাহত থাকবে।