স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী শহরকে বলা হয়ে থাকে বাসযোগ্য নগরী। আর এর পেছনে রয়েছে বেশকয়েকটি কারণ। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এর মধ্যে অন্যতম। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাই শুধু কোন অঞ্চলের মানুষদের নাগরিক সুবিধার মাফকাঠি নয়। নাগরিক সুবিধা বলতে বোঝাই অনেক কিছু। সাবলীল ও ঝুঁকিহীনবস্থায় চলাফেরার নিমিত্তে রাজশাহী নগরীর রাস্তাঘাট পূর্বের চাইতে বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সম্প্রসারণ করা হয়েছে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কগুলো। আর ঐসকল সড়কের উভয় প্রান্তে নির্মাণ করা হয়েছে পায়ে চলার পথ বা ফুটপাত।

আর ফুটপাতের নিচ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ময়লাপানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থাও। নগরীর ফুটপাত ও কোন কোন রাস্তার নিচ দিয়ে নির্মাণকৃত গভীর ড্রেন বা ম্যানহোলগুলোর কোথাও কোথাও বসানো হয়েছে কংক্রিটের ঢাকনা আবার কোথাওবা স্থান পেয়েছে মোটা টিনের পাত দিয়ে তৈরি করা ঢাকনা। ম্যানহোলগুলো সুনির্দিষ্ট সময় পরিষ্কার করার নিমিত্তে বসানো হয়েছে ঐসকল ঢাকনাগুলো। কিন্তু, নাগরিক সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে বসানো ঢাকনাগুলো নগরীর কোথাও কোথাও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। পথচারি আর রাস্তায় চলাচলরত যানবাহনের প্রাত্যহিক ঝুঁকি নিয়ে মাথা উচুঁ করে জানান দিচ্ছে কিছু কিছু ম্যানহোলের ঢাকনা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ঐসকল ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকনাগুলোতে আহত হয়েছে অনেকেই।
নগরীর বর্ণালীস্থ শ্রম অফিসের দেয়াল ঘেষে রাস্তা সংলগ্ন ফুটপাতের একাধিক স্থানের মোটা টিনের তৈরি ম্যানহোলের ঢাকনাগুলোর একাংশ ভেঙ্গে গেছে প্রায় কয়েক মাস পূর্বে। দিনের বেলায় ঝুঁকি কিছুটা কম হলেও রাতের আধারে ঐ ফুটপাত দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করাটা অনেকটাই কষ্টকর বলে জানান হেতেমখাঁ কলাবাগান নিবাসী খায়রুল. শামীমসহ অনেকেই। ঐস্থানের চায়ের দোকানদার রানা জানান, এই ভাঙ্গা ম্যানহোলের ঢাকনার ভেতর পা ঢুকে মারাত্মক জখম হয়েছেন অনেক পথচারি। ড্রেন পরিষ্কার করতে আসা রাসিকের কর্মী ও সুপারভাইজারকে একাধিকবার বলার পরেও আজ পর্যন্ত সেগুলো মেরামত কিংবা পরিবর্তন করে কমানো হয়নি পথচারিদের ঝুঁকি।
নগরীর অনেক স্থানেই বর্ণালী এলাকার মতো ভাঙ্গা ম্যানহোলের ঢাকনার দেখামেলে। নগরীর শেখেরচক, বেলদারপাড়া, বহরমপুর এলাকার পাড়ামহল্লার ড্রেনগুলোর উপর নির্মিত ম্যানহোলের উন্মুক্ত ঢাকনার কারণে প্রতিনিয়তই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে পথচারি ও এলাকাবাসি। বেলদারপাড়াস্থ সুমন চৌধুরী জানান, সন্ধ্যার পর অফিস থেকে বাড়ী ফিরতে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় ভাঙ্গা আর ঢাকনাবিহীন ড্রেনের উপর দিয়ে। এদিকে, নগরীর শিরোইল দোশরমন্ডল মোড়ে প্রায় বছর খানেকের বেশি সময় ধরে রাস্তার উপর অর্ধভাঙ্গাবস্থা পড়ে আছে পাতলা লোহার তৈরি একটি ঢাকনা।
রাস্তাটি দিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত অবদি চলাচল করে বিভিন্ন শ্রেণীর যানবাহন। চত্বরটির উত্তর দিকের রাস্তার প্রায় মধ্যভাবে ম্যানহোলের সেই ভাঙ্গা ও দেবে যাওয়া ঢাকনাটির জন্য ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে গাড়িঘোড়া। ঐ এলাকার রুবেল, রোমি, মাসুম ও শাহীনসহ স্থানীয়রা জানান, প্রাইভেটকার, মোটর সাইকেল ও অটোরিক্সার মতো হালকা বাহনগুলোর জন্য স্থানটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একাধিকবার ঐস্থানে ছোট ও মাঝারি ধরনের দূর্ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তাদের বিষয়টি একাধিকবার অবগত করলেও মেলেনি কোন পরিত্রাণ। উক্ত ২১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিযাম সাহেবকে এবিষয়ে একাধিকবার ফোন করা হলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। যার কারণে বোগান্তির বিষয়ে কোন মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।