স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর অদুরে পবা উপজেলার কাটাখালীতে বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষের ঘটনায় ১৭ জন নিহতের দধ্যে ১৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহতরা হলেন, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার রাজারামপুর গ্রামের সালাহউদ্দিন, তার স্ত্রী সামছুন্নাহার, সামছুন্নাহারের বোন কামরুন্নাহার, তাদের সন্তান সাজিদ ও সাবা, দ্বারিকাপাড়া গ্রামের মোখলেসুর, পীরগঞ্জ সদর তাজুল ইসলাম ভুট্টু, স্ত্রী মুক্তা, সন্তান ইয়ামিন, বড় মজিদপুর গ্রামের ফুল মিয়া ও তার স্ত্রী নাজমা এবং তাদের সন্তান সুমাইয়া, সাদিয়া ও ফয়সাল। চালকসহ ১৭ জন ছিলেন মাইক্রোবাসে।
উল্লেখ্য রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালীতে ২৬ মার্চ শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে কাপাশিয়া এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মাইক্রোবাসে আগুন ধরে গেলে ভেতরে ১১ জনই পুড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। বাকিদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে যাওয়ার পর বাকিরা মারা যায়। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন দুইজন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, রাজশাহী থেকে হানিফ পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছিলো। অন্যদিকে যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস অপরদিক থেকে রাজশাহী শহরের দিকে ঢুকছিলো। মাইক্রোবাসের যাত্রীরা রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে রাজশাহীতে স্বপরিবারে রয়েল হাসপাতালের প্রধান হিসাবরক্ষক তারিফের বাসায় বেড়াতে আসছিলেন বলে জানা যায়। যাত্রীবাহী হানিফ পরিবহন ও মাইক্রোবাসটি ওই এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মূহুর্তের মধ্যে মাইক্রোবাসটিতে আগুন লেগে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
ফলে মাইক্রোবাসের ভিতরেই পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে মাইক্রোবাসের ভিতর থেকে নারী-পুরুষ ও শিশু সবমিলিয়ে ১১ জনের লাশ উদ্ধার করেন। এছাড়াও রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে আরও ৮ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ৬ জনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। অপর দুইজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা সবাই পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়। মাইক্রোবাসে মোট ১৭ জন যাত্রী ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন রাজশাহীস্থ আত্মীয়রা। তারা জানান, রংপুর থেকে তারা রাজশাহী ভ্রমণে আসছিলেন। কিন্তু তাদের এই যাত্রায় শেষ যাত্রা হলো।