এফএনএস : বাংলাদেশ সীমান্তে প্রাণহানির পেছনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জয়শঙ্কর এ কথা বলেন। সীমান্ত হত্যা নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি মনে করি, আমরা একমত হয়েছি, যে কোনো মৃত্যুই দুঃখজনক। কিন্তু আমাদের নিজেদের জিজ্ঞেস করতে হবে, সমস্যাটি কেন হচ্ছে। এবং আমরা জানি সমস্যাটি কী। সমস্যা হচ্ছে অপরাধ।
সুতরাং আমাদের মিলিত উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ‘অপরাধহীন ও মৃত্যহীন’ সীমান্ত। আমি নিশ্চিত, আমরা যদি এটা করতে পারি, অপরাধহীন ও মৃত্যহীন সীমান্ত, তাহলে একসাথে এই সমস্যার সমাধান করতে পারব। জয়শঙ্কর বলেন, যেটাকে আমরা সীমান্ত হত্যা বলি, মূলত অনেকগুলো মৃত্যু হয় ভারতের বহু ভেতরে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী (মোমেন) এবং আমি এ ব্যাপারে আলোচনা করেছি, যেভাবে প্রতিবেশী ও বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা হওয়া দরকার। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির সময়সীমা নিয়ে এক প্রশ্নে কৌঁসুলি উত্তর দিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি।
খুব শিগগির আমাদের সচিবদের বৈঠক রয়েছে। আমি নিশ্চিত, তারা এ বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা চালিয়ে নেবেন। আমি মনে করি, আপনারা এ ক্ষেত্রে ভারত সরকারের অবস্থান জানেন, যা এখনো পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর চূড়ান্ত করতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছান জয়শঙ্কর। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন; প্রায় দেড় ঘণ্টা চলে তাদের এই বৈঠক।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্পর্কের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যা নিয়ে আমরা বর্তমানে কাজ করছি না। আমাদের সম্পর্ক সত্যিকার অর্থে ৩৬০ ডিগ্রি। মানুষের সম্পর্কের সব ক্ষেত্রে আমরা কিছু না কিছু করছি। যতই কাজ করছি, ততই নতুন নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হচ্ছে। পঞ্চাশ বছরের সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় যোগাযোগকে ‘বড় পরিসরে গুরুত্ব দেওয়া দরকার’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, কানেক্টিভিটির এই জায়গাকে আমরা বড় লক্ষ্য হিসাবে ধরে এগোতে পারি।
জয়শঙ্করের মতে, ভারত ও বাংলাদেশ যদি কানেক্টিভিটির জায়গায় ঠিকমত কাজ করতে পারে, তাহলে পুরো অঞ্চলই বদলে যাবে; বঙ্গোপসাগরীয় এলাকাকে তখন অন্যরকম মনে হবে। আমরা উভয়দেশ মনে করি এটা সম্ভব। আজকের দিনে আমাদের আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল এটা। আমরা চাইলে এ ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশকেও একীভূত করতে পারি।