রাবিতে পর্যটন মেলা ও খাবার উৎসব শুরু
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) চার দিনব্যাপী পর্যটন মেলা ও খাবার উৎসব বুধবার (০৪ নভেম্বর) শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ রবীন্দ্র ভবন চত্বরে চতুর্থবারের মতো এই মেলার আয়োজন করেছে। এদিন সকাল ১০টায় এই আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাছিম বিল্লাহ ফারুকী। ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি প্রফেসর মো. জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এই অনুুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মতিয়ার রহমান ও ট্যুরিস্ট পুলিশের রাজশাহী অঞ্চলের এসপি চন্দন চন্দ্র সরকার।
অনুষ্ঠানে পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা এবং এর ভবিষ্যত নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ। এই আয়োজনের আহ্বায়ক প্রফেসর মো. এনায়েত হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে অভ্যন্তরীন পর্যটন ক্রমে বাড়ছে। ফলে পর্যটন আজ এক বড় শিল্পে পরিণত হয়েছে। এখন প্রয়োজন এই ক্ষেত্রে আরও বিনিয়োগ এবং পর্যটন ও আতিথেয়তাবিদ্যায় শিক্ষিত ও দক্ষ জনবল। সেক্ষেত্রে রাবির ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই গতিশীল এই বিভাগের স্নাতকরা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছে। পর্যটনের বিকাশে তৃতীয় ভাষার গুরুত্ব অনুধাবন করে ইতিমধ্যে রাবির ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ চীনা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। আগামীতে আরও বিদেশি ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুর পরিকল্পনা আছে বলেও উপাচার্য জানান। পর্যটনের অনেক ক্ষেত্র আছে যেগুলো বাংলাদেশে এখনো তেমন পরিচিত নয়। অনুসন্ধান ও গবেষণার মাধ্যমে যেসব ক্ষেত্রকে উন্মোচন ও বিকশিত করতে রাবির সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও গবেষকরা কাজ করে যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর মো. আব্দুল আলিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ পর্যটন ক্ষেত্রে এক সম্ভাবনাময় দেশ। এখানে পর্যটনের প্রতি দেশের মানুষের আগ্রহ বেড়ে চলেছে। এক্ষেত্রে পর্যটন ক্ষেত্রে প্রয়োজন উদ্যোক্তা ও জনবল। আমাদের পর্যটনবিদ্যায় স্নাতকরা ক্রমে চাকুরির সন্ধান থেকে চাকুরিদাতায় রূপান্তরিত হওয়ার যে প্রয়াস চালাচ্ছেন তিনি তাকে স্বাগত জানান। রাবিতে আয়োজিত এই পর্যটন মেলা দেশে পর্যটনকে উৎসাহিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর কেক কাটা হয়। এরপর এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের সুসজ্জিত ব্যান্ড দল বাদ্য পরিবেশন করে। চার দিনব্যাপী এই মেলায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের ৪৬টি স্টল আছে। এছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি
