২৮ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

হৃদয়গ্রাহী স্ট্রিট আর্ট ও সুরক্ষিত ফুটপাত,চলাচলে কমেছে ঝুঁকি, বেড়েছে সৌন্দর্য্য

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:০৪ অপরাহ্ণ | বিভাগ: স্পেশাল নিউজ
হৃদয়গ্রাহী স্ট্রিট আর্ট ও সুরক্ষিত ফুটপাত,চলাচলে কমেছে ঝুঁকি, বেড়েছে সৌন্দর্য্য
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর অধিকাংশ ফুটপাতই ছিল দখলদারদের কব্জায়। যার কারনে ফুটপাতগুলো ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারতোনা চলাচলকারিরা। ফুটপাত দখল করে বছরের পর বছর ভ্রাম্যমান ও অস্থায়ী দোকান দিয়ে ব্যবসা করার কারনে লাগোয়া সীমানাপ্রাচীরগুলোও নষ্ট হতে শুরু করেছিলো। তারই পরাম্পরায় রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের সীমানাপ্রাচীর ঘেষা ফুটপাতটির বিভিন্ন অংশ দখল করে চলতো বিভিন্ন ধরণের ব্যবসা। নগরীর অন্যতম ও প্রধান এই সড়কের উভয়পাশে পথচারীদের নিরাপদে হেঁটে যাওয়ার জন্য তৈরি করা ব্যয়বহুল সেই বাঁধানো পথটি পেশিশক্তির জোড়ে বছরের পর বছর ধরে দখলে রেখে চলেছে নানা ধরণের ব্যবসা। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) কর্তৃক নগরীর বিভিন্নস্থানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় দখলে থাকা মহিলা কলেজের সামনের দীর্ঘ সেই ফুটপাতটিও দখলমুক্ত করে কর্তৃপক্ষ। শুধু দখলমুক্ত করেই ক্ষান্ত থাকেননি রাসিক কর্তৃপক্ষ। পুরোচিত্রই পাল্টে দিয়েছে রাসিক। চলাচলে সুরক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি পথচারিদের আবেগ ও অনুভূতির মাত্রাও বাড়ানো হয়েছে উক্তস্থলে। হৃদয়গ্রাহী স্ট্রিট আর্ট ও সুরক্ষিত ফুটপাত নগরবাসির মনকোঠায় স্থান করে নিয়েছে কর্তৃপক্ষের এই নতুনত্যের বিষয়টি।
রাসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরীর পরিবেশ রক্ষা ও শহরকে দৃষ্টিনন্দন করার এই নান্দনিক উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে মহানগরীর অন্যান্য সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রসারিত করা হবে। যদিওবা প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনের কর্মযজ্ঞ চলমান ছিলো বেশকয়েকদিন। তবে এটিকে নিয়মিত ও একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান রাসিক সূত্র। মহানগরীর সরকারি স্থাপনাগুলোর সীমানা প্রাচীরে আঁকা হচ্ছে বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গ্রামীণ রূপসী বাংলার চিত্রমালা।
রাজশাহী মহিলা কলেজের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন দীর্ঘ সেই ফুটপাতটিকে সুরক্ষিত করতে বসানো হয়েছে উন্নতমানের এসএস পাইপের বেস্টনি বা ফ্রেম। ফুটপাতের একাংশে স্থাপন করা এই ফ্রেম বা বেস্টনির কারণে ফুটপাত দিয়ে চলাচলকারীরা রাস্তায় চলাচলরত যানবাহনের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকবেন। বিশেষ করে শিশু-মহিলা ও বয়োজ্যেষ্ঠ বা প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য এই ধরণের উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখবে বলে মন্তব্য সচেতন ব্যক্তিদের।

কলেজের দেয়ালে আঁকা হয়েছে জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতি। আছে মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ, লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবয়ব; আছে স্বাধিকার আন্দোলনের দৃশ্য। রংয়ের তুলির আচড়ে ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে গ্রামীণ পরিবেশের সৌন্দর্যের। আঁকা হয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র, নদীমাতৃক গ্রাম বাংলার শান্ত-বিশুদ্ধ মনমুগ্ধকর রূপ, আছে মোনভোলানে মেঠোপথের দৃশ্য। এছাড়াও রংয়ের তুলির আচড়ে দেয়ালটি অলঙ্কিত করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন স্থাপত্যের চোখজুড়ানো চিত্রকর্ম দিয়ে।
সবমিলিয়ে মহিলা কলেজের সীমানাপ্রাচীর একটি হৃদয়গ্রাহী স্ট্রিট আর্টে পরিণত হয়েছে। রাসিক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পুরনো ও মলিন হয়ে যাওয়া দেয়ালগুলো পেয়েছে রতুর রূপ, যা পথচারী ও দর্শনার্থীদের সহজেই মুগ্ধ করছে।
নগরীর সৌন্দর্য্য বর্ধন, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে যিনি অগ্রণী ভূমিকা বা উদ্যোগ নেন, তাকে রূপক অর্থে “নগরপিতা” (মেয়র পদের ক্ষেত্রে) বা “নগর রূপকার” বলা হয়। যিনি একটি শহরের জীর্ণ দশা বা সাধারণ রূপ বদলে তাকে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করে তোলেন তাকে “নগর রূপকার” বলা হয়। সাজানো গোছানো আর সবুজায়নে ঘেরা এই মনোরম শহরকে আরোবেশি মনমুগ্ধকর ও নিরাপদ করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন একজন নগর রূপকার বলে মন্তব্য স্থানীয়দের।

 

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন