৩ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে তৃণমূলের মতামতেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হবে : এমপি মিলন

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজনীতি, রাজশাহী
স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে তৃণমূলের মতামতেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হবে : এমপি মিলন
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। শনিবার(০৩ অক্টোবর) বিকেলে পবার বড়গাছী ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে এমপি মিলন পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ‘খুনি ও গুমকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রতি তার চরম প্রতিহিংসা ছিল। ক্ষমতায় টিকে থাকতে তার কোনো ভোটের প্রয়োজন ছিল না। বিশ্বের স্বৈরশাসকদের তালিকায় তাকে এক নম্বর হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তার আমলে যাকে খুশি তাকেই জনপ্রতিনিধি বানানো হতো। সেখানে জনগণের মতামতের কোনো মূল্য ছিল না।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে দলের নীতি তুলে ধরে তিনি জানান, আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বর থেকে শুরু করে উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃণমূল কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নাম প্রস্তাব হয়ে উপজেলা ও জেলায় যাবে এবং সর্বসম্মতিক্রমে দলের একক প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। তৃণমূল কর্মীদের মূল্যায়ন করে একক প্রার্থী দিলে দলের অভ্যন্তরে অতীতে যারা বিদ্রোহী বা মুনাফেক ছিল, তারা আর সুবিধা করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে শফিকুল হক মিলন বলেন, জিয়াউর রহমান নিজের জীবন উৎসর্গ করে সততার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। অন্যদিকে, বেগম খালেদা জিয়া সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় নিজের জীবন বাজি রেখেছেন এবং স্বৈরাচারের পতন ঘটাতে নিরলস সংগ্রাম করেছেন।
নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি অতীত ও বর্তমানের বিভিন্ন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দলের বা দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ষড়যন্ত্র হলে পবার বড়গাছী থেকেই তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দলের নেতা-কর্মীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ঐক্যবদ্ধভাবে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
পবার অন্যান্য ইউনিয়নের মতো বড়গাছী ইউনিয়ন বিএনপিও ঐক্যবদ্ধ উল্লেখ করে এমপি মিলন বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে এই ইউনিয়নের জনগণ ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপকহারে রায় দিয়েছে। বিএনপি একটি বৃহৎ দল। এই দলে নেতাকর্মী ও সমর্থকের কোনো অভাব নেই, আছে বলিষ্ঠ একাধিক নেতা, যা দলের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বড়গাছী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সোহেল রানার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় কর্মীসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী, পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য আলী হোসেন, সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ ও কুতুব উদ্দিন বাদশা, বড়গাছী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক নেতা জেটের আলী, পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম এবং হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব বাদশা মিয়া।
এছাড়া মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা, পবা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ ছোট, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আলামিন ও পবা উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেনসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। কর্মীসভা শেষে মরহুম শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ারসহ তাদের পরিবারবর্গ ও দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন