আরা ডেস্ক : সোমবার(৩০ (মার্চ) মহান জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী-৩(পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শফিকুল হক মিলন। এ সময়ে তিনি স্পিকারকে রাষ্ট্রপতির ভাষনের উপরে বক্তব্য রাখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। সেইসাথে বিনা প্রতিদন্দিতায় ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকেও ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্যের শুরুতেই বাংলার রাখাল রাজা, উন্নয়নের রুপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুরোধা গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ ও তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। সেইসাথে পার্টির চেয়ারম্যান ও তাঁকে মনোনয়ন দেয়ায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সেইসাথে তাঁবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে মহান সংসদে পাঠানোর জন্য পবা-মোহনপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান তিনি। সংসদে তিনি বলেন, দেশ ও জাতীর স্বার্থে একটি সুন্দও নির্বাচিন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যের সময় সত্য ইতহাসকে স্বীকার করে নিয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিগত দিনে নৈরাজ্য, সন্ত্রাসের যে উত্থান হয়েছিলো এবং বাংলাদেশ যে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছিলো তা অকপটে স্বীকার করে নেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে তিনি আবারও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের পূর্বে রাজশাহীতে গিয়েছিলেন। সেখানে কৃষকদের জন্য কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণ মওকুপের ঘোষনা দিয়েছিলেন। সেটি তিনি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছেন। এছাড়াও তিনি কৃষির উন্নয়নের রাজশাহীতে একটি পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এর ঘোষনা দিয়েছিলেন। সেই পদ্মা ব্যারেজটি দ্রুত নির্মাণের দাবী জানান তিনি।
তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা পবা-মোহনপুরের সমস্যা তুলে ধরে আরো বলেন, ২০০৮ সালে পবা উপজেলা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরে সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কবীর হোসেন এই আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপরে বিগত সরকারের আমলে এই আসন হতে বিএনপি আর নির্বাচিত হতে পারেনি। ২০১৮ সালে তাঁকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু দিনের ভোট আগের রাতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় তিনি নির্বাচিত হতে পারেনি। তিনি বলেন, দীর্ঘ সতের বছরে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের প্রায় বিশ হাজার নেতাকর্মীরা শহীদ হয়েছেন। পাঁচ লক্ষ নেতাকর্মীর নামে ষাট হাজার মামলা হয়েছে। বিএনপির অনেক সুর্য্য সৈনিক খুন হয়েছে ও গুম করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টে কমলমতি শিক্ষার্থী ও দেশের আপামর প্রায় দেড় হাজার জনগণ শহীদ হয়েছেন। সেইসাথে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা পঙ্গু হওয়ার পরে এই দেশে নতুন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই সংসদ সোনার ও রুপোর কাঠি দিয়ে সৃষ্টি হয়নি। বিএনপি পরিবারের নেতাকর্মীদের ট্যুর ছিলো জেলখানা। পোস্টিং ছিলো রাজশাহী ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলখানা। জেলখানা থেকে বাহিরে আসার সময় ডান্ডাবেরি পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো। শুধু তাইনয় মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে গেলেও এইক অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হতো বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, এই মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সবাইকে অতিতের কথা মনে রাখার কথা বলেন। সেইসাথে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান তিনি। সংসদ সদস্য মিলন সংসদে আরো আরো উল্লেখ করে বলেন, রাজশাহীতে শাহ মখদুম রুপোশ (রা.) এর নামে একটি আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দর রয়েছে। কিন্তু এখান থেকে আভ্যান্তরিনভাবে বিমান চলাচল করে। কয়েকদিন আগে পত্রিকা মারফত জানতে পারেন দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরগুলোকে ওয়াই-ফাই এর অন্তর্ভূক্ত করা হবে। কিন্তু সেই তালিকায় রাজশাহী বিমানবন্দরের নাম নেই। ওয়াইÑফাই এর অন্তর্ভূক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, রাজশাহী হচ্ছে কৃষি প্রধান একটি অঞ্চল। এখানকার কৃষিপন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং দেশের বাহিরে যায়। কিন্তু সরাসরি রাজশাহী থেকে আভ্যন্তরিন এবং দেশের বাহিরে কোন পন্য যায়না। এজন্য রাজশাহী থেকে কার্গোবিমান চালুর দাবী করেন তিনি। এটা হলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মিলন আরো বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় অনেক বেকার রয়েছে। বেকারত্ব সমস্যা দূর করতে এগ্রোবেইজ ইন্ডাষ্ট্রিজ করলে সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। তিনি বলেন, রাজশাহীতে বীজ সংরক্ষণের কোন হিমাগার নাই। তিনি বীজ সংরক্ষণে একটি ভালমানের হিমাগার করা দাবী জানান। রাজশাহীতে মেডিকেলে অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আজো আলোর মুখ দেখেনি। দ্রুত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি নির্মাণসহ পবা-মোহনপুরে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নের দাবী তুলে ধরেন তিনি। এদিকে মহান সংসদে পবা-মোহনপুর তথা রাজশাহীর উন্নয়নের দাবী জানিয়ে বক্তব্য রাখায় নির্বাচনী এলাকা তথা রাজশাহীবাসীর প্রসংশায় ভাসছেন তিনি। তাঁর মত রাজশাহীবাসী ও পবা-মোহনপুরবাসীও উন্নয়নের দাবী জানান প্রধানমন্ত্রীর নিকট।